২০১৯ রাজনীতি: বিজেপি শূন্য পেতে পারে, মমতাও হতাশ হতে পারেন
স্বাগত নতুন বছর৷ ইংরাজি নববর্ষে শুভেচ্ছা৷ বর্ষবরণে মিশে থাকে আগামীর পথ চলার ভাবনা৷ এই লক্ষ্যে Kolkata 24×7 নতুন করে ভাবছে৷ এতে মিশে আছে ভবিষ্যৎ দেখার ইচ্ছে৷ আমরা এগিয়ে চলেছি, তাই পিছন ফিরে দেখা নয় আগামীকেই স্বাগত জানাচ্ছি৷ ২০১৯ সালের সম্ভাব্য কিছু ঘটনা তুলে ধরছি৷ বাংলা সংবাদমাধ্যমে এ এক ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা৷ দেশ থেকে বিদেশ, খেলা থেকে মেলা সমস্ত বিষয়ের সব খবর এক ক্লিকে৷ এই প্রতিবেদনে বঙ্গ রাজনীতির দশদিক…
১. মমতার সেই সুযোগ নেই …

২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে রাজ্য রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবেন, অথচ তাঁকে এড়িয়ে চলবেন, তা এ বাংলায় অসম্ভব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনি পছন্দ করুন বা না-ই করুন, তিনি আপনার আলোচনায় আছেন-থাকবেন৷ ২০১৯ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনের পর মমতা কী ‘ওই’ চেয়ারে বসবেন? আমবাঙালির কাছে এখন তা লক্ষ-কোটির প্রশ্ন৷ তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি দেখে আমাদের মনে হয়েছে মমতার সেই সুযোগ নেই৷
২. অমিতের অধরা স্বপ্ন

পাঠক হিসেবে আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে লোকসভা নির্বাচনে কটি আসন পাবে বিজেপি? আমাদের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে পাওয়া ২৭ শতাংশ ভোট বেড়ে যদি ৪৫ শতাংশ হয়, একমাত্র তাহলেই পশ্চিমবঙ্গে ২২টি লোকসভা আসন পেতে পারে বিজেপি৷ রাজনৈতিক মহল এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলায় বাড়তি ১৮ শতাংশ ভোট জোগার করা বিজেপির পক্ষে অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে৷ তবে এই ১৮ শতাংশের গণ্ডি টপকে যেতে পারলে তবেই অমিত শাহের ২২টি লোকসভা আসন জয়ের স্বপ্ন সফল হবে৷
৩. ভোটের রিভার্স স্যুইংয়ে …

বিজেপির রথের চাকা যদি বাংলার মাটিতে গড়ায় কিংবা মোদী-শাহের উপর্যুপরি রাজনৈতিক সভা হতে থাকলে ২৭ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে নিতে পারবে বিজেপি৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ৪৪.৯১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৮০০ জেলা পরিষদ আসন জিতেছে৷ সেক্ষেত্রে যদি ধরেও নেওয়া হয় তৃণমূলের আসন বাড়ছে না, তবুও বিজেপির সঙ্গে ১০ শতাংশ ভোটের পার্থক্য থেকেই যায়৷ বিশেষজ্ঞদের মত, বিজেপি পঞ্চায়েতের ২৭ শতাংশ ভোটকে ৩৫ শতাংশ করতে পারলে দু’ধরণের ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ এক, তৃণমূলকে অবাক করে বিজেপি প্রায় ৯টি আসন দখল করল৷ অন্যদিকে, এই আশঙ্কাও রয়েছে যে বিজেপি কোনও আসনই পেল না৷ একেবারে লাড্ডু৷
৪. রথের চাকা গড়াবে

অমিত শাহের রথের চাকা গড়াবে৷ তবে তা জানুয়ারির ১৯ তারিখের পর৷ সব বন্দবস্ত করে রেখেছেন মমতা৷ কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে,সরকারের পক্ষে ফলাফল এতটাই সদর্থক যে, এই বছরে অন্তত বাংলার মাটিতে রথের চাকা ঘোরার কোনও সম্ভাবনাই রইল না৷ ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ কলকাতায় ফেডারেল ফ্রন্টের সভা৷ ব্রিগেডে ওইদিন ২৫ লক্ষ মানুষের জন সমাগম করতে চান মমতা৷ তৃণমূলের দাবি অ-বিজেপিয় সমস্থ নেতাই থাকবেন ওই মঞ্চে৷ ওই সভা হওয়ার আগে অন্তত বিজেপির রথের চাকা মাটিতে বসিয়ে দিতে পেরেছেন মমতা৷
৫. কলকাতায় ঘর ভাড়া নেবেন অমিত

লোকসভা ভোটের আগে বাংলার মাটিতে অমিত শাহের আনাগোনা ২০০ শতাংশ বাড়বে৷ বিজেপি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী ২৩টি আসন জিতুক বা না-ই জিতুক নতুন বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে বাংলায় বারবার সভা করতে দেখা যাবে৷ দেশের পূর্বপ্রান্তই হাসি ফোটাবে নরেন্দ্র মোদীর মুখে ৷ দিল্লির ১১ নম্বর অশোক রোডের বাসিন্দারা জানেন পূর্বদিকই উদিত সূর্যের মতো বিজেপিকে আলো দেখাচ্ছে৷ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দেশের পূর্বদিক থেকে ১০টি আসন পেয়েছিল৷ সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবে যে বাড়বে, সেব্যাপারে নিশ্চিত গেরুয়া শিবির৷ অমিত শাহ আগেই বলেছিলেন কলকাতায় ঘর ভাড়া করে থাকবেন৷ অমিত শাহের জন্য বাসস্থান খুঁজবেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব৷
৬. রাজ্যাভিষেক

বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভেসে উঠবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম৷ মাঝে শুধু ২০২০৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ২০২১ সালে কোনও চমক দেবেন? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যাভিষক হবে? ১৯-এ এই জল্পনার ঘনত্ব বাড়বে৷ উত্তর রয়েছে সময়ের হাতেই৷ ২০০৪ সালে সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী না হয়ে দেশকে চমক দিয়েছিলেন৷ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মনমোহন সিং৷ রাজ্যের মানুষ হয়তো তেমন কিছু আশা করতে পারেন৷
৭. দলবদল, রংবদল

শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ধামাকা দিয়েছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায়৷ শাসকদলের কিছু পরিচিত মুখ দল দলবদল করতে উৎসাহী তা ভালোই জানেন তৃণমূলের হাইকমান্ড৷ কংগ্রেসের অনেক নেতাও নাকি তলায় তলায় বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে৷ যাঁদের দলবদল নিয়ে সারা বছর জল্পনা থাকবে তাঁরা হলেন – কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ এবং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরি৷
৮.বনধ দিয়ে শুরু, তবে প্রভাব শূন্য

দেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে বছরের শুরুতেই বনধ ডেকেছে৷ জানুয়ারির ৮ এবং ৯ তারিখ সারা দেশের বামপন্থীরাই ধর্মঘট পালন করবেন, তা বলাই যেতে পারে৷
ভিডিও – রাজ্যে অন্তত দু-তিনবার সাধারণ ধর্মঘট ডেকে নিজেদের উপস্থিতি জানাতে চাইবে সিপিএম৷ তবে নিটফল শূন্য৷
৯. রাজপথে আরও লালমিছিল

একসময় বাংলা সারা দেশকে পথ দেখিয়েছিল৷ এক্ষেত্রে অবশ্য বাংলাকে পথ দেখিয়েছে মহারাষ্ট্রের নাসিক, পুনে৷ বাংলার কৃষক ক্ষেত-মজুরদের মিছিল শহরের রাজপথ লালে লাল করবে৷ ঠিক যেমন লাল মিছিল বেরিয়েছিল মহারাষ্ট্রে৷ আরও লাল মিছিল দেখার অপেক্ষায় থাকুক বাংলা৷ ২০১৯-এ আন্দোলনেই বেঁচে থাকবে বামপন্থা৷
১০. সিপিএম-কং বন্ধুত্ব অটুট

পার্টি কংগ্রেসের ‘পলিটিক্যাল ট্যাকটিকাল লাইন’-কে পাশে সরিয়ে বাংলায় বাম-কংগ্রেস বন্ধুত্ব অটুট থাকবে৷ রাহুল গান্ধীও বুঝবেন বাংলার কং-নেতারা তৃণমূলকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিতে পারবেন না৷ সোমেন মিত্র যেমন রাহুলকে আগেই বলে এসেছেন, সুদূরপ্রসারী ভাবে ভালো ফল করতে হলে সিপিএমই ভালো৷ চটজলদি ভালো ফল চাইলে তৃণমূল৷ তবে বাম শরিকদের বোঝাতে ব্যস্ত থাকবে সিপিএম৷ প্রশ্ন উঠবে বাম ঐক্য নিয়েও৷
The post ২০১৯ রাজনীতি: বিজেপি শূন্য পেতে পারে, মমতাও হতাশ হতে পারেন appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2AqrtE3
via IFTTT
Comments
Post a Comment