অযত্নে অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে বাঁকুড়ার ঘাঘর

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অকৃপণভাবে প্রকৃতি তার অপরূপ সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে। এবার বাকি কাজ টুকু এখন মানুষের হাতে। প্রকৃতির অপার দানের সঙ্গে প্রশাসনের একটু সদিচ্ছা যুক্ত হলেই মুকুটমনিপুর, শুশুনিয়া, বড়দি পাহাড়, কদমদেউলীর সঙ্গে বাঁকুড়ার পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত হতে পারতো তালডাংরার হাড়মাসড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘাঘর। শিলাবতী নদীর পাথরের ভাঁজে ভাঁজে বহমান জলধারা আকৃষ্ট করবে সবাইকে।

স্থানীয়দের দাবি, শিলাবতী নামকরণের পিছনে কারণ হিসেবে রয়েছে এই ঘাঘর ও তৎসন্নিহিত এলাকাই। তাঁদের যুক্তি, পুরুলিয়া জেলায় শিলাবতী নদীর উৎপত্তি স্থল থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই নদীর শেষ পর্যন্ত কোথাও এতো সুবিশাল পাথর দেখা যাবেনা। ব্যতিক্রম এই এলাকা। এমনকি তারা আরও জানিয়েছেন, কোনও কালে কোনও বন্যায় শিলাবতীর ঘাঘরের হাতি পাথর জলের তলায় যায়নি।

জেলা শহর থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার দূরে৷ বাঁকুড়া-লক্ষীসাগর ভায়া হাড়মাসড়া বাস রাস্তা ধরে কদমা মোড় থেকে লাল মোরাম রাস্তা দিয়ে খানিক গেলেই সহজে পৌঁছে যাওয়া যায় তালডাংরা-সিমলাপাল ব্লক সীমান্তে আদিবাসী প্রধান ছোট্ট জনপদ তুলসিপুরে। আর এই গ্রামের পাশেই শিলাবতী নদী ঘাট ঘাঘর। নদীগর্ভে মূলত বিশালাকার সব পাথরের জন্যই বিখ্যাত এই এলাকাটি। মূলত পাথুরে সৌন্দর্যের টানেই ফি বছর পর্যটন মরশুমে এখানে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন।

রাজ্য সরকার যখন ইকো ট্যুরিজমের উপর জোর দিচ্ছেন৷ তখন একপ্রকার প্রশাসনিক অবহেলা আর অনাদরে পড়ে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া ঘাঘর। শুধু পাথুরে সৌন্দর্য নয়৷ শীতের এই সময়টাতে অসংখ্য পরিযায়ী পাখিরও দেখা মেলে এখানে। স্থানীয়রা প্রশাসনিক স্তরে অসংখ্যবার এই এলাকাটিকে ইকো ট্যুরিজমের আওতাভুক্ত করার দাবি জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা উদয় সৎপতি বলেন, প্রথম উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা করা দরকার। রাস্তার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। পাশাপাশি কিছু পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ করলেই এই এলাকার মানুষও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

বনভোজনের উদ্দেশ্যে এই ঘাঘরে আসা রাইপুরের রঞ্জিত মহাপাত্রও পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান। সামান্য কিছু খরচ করলেই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে এই এলাকাটি। পানীয় জলের ব্যবস্থা, পর্যটকদের জন্য রাত্রিবাসের জন্য কটেজ তৈরি করলে এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা রাবণ টুডু জানান, এই শীতের মরশুমে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ এখানে আসেন। ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারির মতো বিশেষ বিশেষ দিনে সেই সংখ্যাটা হাজারও ছাড়িয়ে যায়।

The post অযত্নে অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে বাঁকুড়ার ঘাঘর appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2Q2V2R3
via IFTTT

Comments