বছর শেষের ছোট্ট ছুটিতে নতুন ডেস্টিনেশন ‘বড়দি পাহাড়’

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘পায়ের তলায় সর্ষে’ বাঙালির বেড়ানোর নতুন ‘ডেস্টিনেশান’ হতে চলেছে বাঁকুড়ার সারেঙ্গার বড়দি পাহাড়। চলতি পর্যটন মরশুমে জেলার মুকুটমনিপুর, শুশুনিয়ার পাশাপাশি কংসাবতী নদীর তীরে শাল, মহুয়ার জঙ্গলঘেরা এই পাহাড়তলিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য এখানে মানুষ আসছেন।

স্থানীয়দের পিকনিক বা চড়ুইভাতির প্রথম পছন্দের তালিকার পাশাপাশি এখন বাইরে থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে আসছেন। আর সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক অর্থনীতিকে উন্নত করতে উঠে পড়ে লেগেছে প্রশাসন। বড়দি পাহাড়কে ‘ইকো ট্যুরিজমে’র আওতাভূক্ত করে সুদৃশ্য কটেজ, কিচেন শেড্, শৌচালয়, রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে একের পর এক পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিয়েছেন তারা।

বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্যসড়ক ধরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় সারেঙ্গার পিরলগাড়ি মোড়। সেখান থেকে মহকুমা শহর খাতড়াগামী রাস্তার মধ্যে পড়ে চুয়াগাড়া মোড়। ঐ মোড় থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার কালো পিচের রাস্তা ধরে চার কিলোমিটার গেলেই নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কালাপাথার গ্রাম সংলগ্ন বড়দি পাহাড়।

পাহাড়ের কোল ঘেঁষে আপন বেগে বয়ে চলেছে কংসাবতী নদী। আর সেই নদী সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে একটি ঝর্ণাও। যা এলাকার মানুষের কাছে ‘কালাঝর্ণা’ নামেই পরিচিত। পাহাড়, জঙ্গল, নদী, ঝর্ণা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ইঁট-কাঠ-পাথর আর কংক্রিটের জীবন ছেড়ে মানুষ এখন প্রকৃতির কোলে, পাখির কলতানে মুখরিত হতে এখন ছুটে আসছেন জঙ্গলমহলের এই বড়দি পাহাড়ে।

জঙ্গলমহলে গুলির লড়াই থেমেছে সেই কবেই। এখন আর যৌথবাহিনী-মাওবাদীদের গুলির লড়াই শুনে ঘুমোতে যেতে হয় না এখানকার মানুষকে। প্রিয়জন হারানোর আশঙ্কায় বুক কাঁপে না কারও। ছন্দে ফিরেছে জঙ্গলমহল। পরিযায়ী পর্যটকদের টানতে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বড়দি পাহাড়কে কেন্দ্র করে প্রশাসনের হাত ধরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এখানকার মানুষ।

জেলার গণ্ডী ছাড়িয়ে এখন পাশের জেলা বা কলকাতা, ঝাড়খণ্ড থেকেও মানুষ এখানে আসছেন। ‘বড়দি’ পাহাড়ের অবস্থানগত সুবিধার কারণে এখান থেকেই সরাসরি পর্যটকরা মুকুটমনিপুর বা শুশুনিয়া পাহাড় ঘুরেও বাড়ি ফিরতে পারছেন।

দুর্গাপুর থেকে বড়দি পাহাড়ে বেড়াতে আসা মোনালী ঘোষ, মনি ঘোষালরা বলেন, প্রকৃতি এখানে অকৃপনভাবে তার সমস্ত সৌন্দর্য্য উজাড় করে দিয়েছে। একসঙ্গে নদী, পাহাড় আর সবুজে ঘেরা বনাঞ্চল একসাথে খুব একটা পাওয়া যায়না। যেকোন সময়, যেকোন দিন, যেকোন মানুষের পিকনিকের আদর্শ জায়গা হতে পারে জঙ্গলমহলের বড়দি পাহাড়। এই প্রথমবার আসা, ভবিষ্যতে তেমন কোন সুযোগ হলে তারা আবারো এখানে আসবেন বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা উদয় মণ্ডল বলেন, আগে এখানে সেভাবে কোন পরিকাঠামো ছিলনা। পাহাড়, নদী আর জঙ্গলঘেরা এই জায়গায় কেবল স্থানীয়রাই আসতেন। শীতের সময় অনেকে পিকনিকও করতেন। পরে সরকারী উদ্যোগে এখানে বিভিন্ন ধরণের পরিকাঠামো গড়ে ওঠে। ফলে বাইরের মানুষও এখানে আসছেন। স্থানীয়দের ব্যবসা বানিজ্য করে কিছু বাড়তি রোজগারের সুযোগ মিলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শ্যামল টুডুর কথায়, মাওবাদী সমস্যা ভুলে এখন আমরা উন্নয়নে মেতেছি। আগে সেভাবে এই বড়দি পাহাড়ের দিকে ফিরেও তাকাতো না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রচুর কাজ হয়েছে ও হচ্ছে। বড়দি পাহাড়কে পর্যটন কেন্দ্রের আওতাভূক্ত করা হয়। এখন বীরভূম, কলকাতা, ঝাড়খণ্ড থেকেও প্রচুর মানুষ আসছেন। ডিসেম্বর-জানুয়ারী থেকেই সাধারণভাবে এখানে লোকসমাগম শুরু হয় বলে তিনি জানান।

The post বছর শেষের ছোট্ট ছুটিতে নতুন ডেস্টিনেশন ‘বড়দি পাহাড়’ appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2QURdCL
via IFTTT

Comments