বড়দিনের উৎসবে এই পর্তুগীজ পাড়ায় বেজে ওঠে শ্রীখোল করতাল
স্টাফ রিপোর্টার, মহিষাদল: পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের গেঁওখালি মিরপুর পর্তুগীজ খ্রিস্টান পাড়ায় রোমান ক্যাথলিক ও সিএনআই প্রোটেস্টান্ট দুটি চার্চ ঘিরে বড়দিনের উৎসবের ব্যস্ততা তুঙ্গে। গেঁওখালি বাজার থেকে খ্রিস্টান পল্লীতে ঢোকার মুখেই রয়েছে ক্যাথলিক চার্চ। বড়দিন উপলক্ষে নতুন করে রঙ করা হয়েছে। আলোয় সেজে উঠেছে চার্চ ও সংলগ্ন বাড়িগুলি। অন্যদিকে, প্রোটেস্টান্ট চার্চটিও রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে। দুটি চার্চ সংলগ্ন মাঠে মেলা বসেছে এবং তৈরি হয়েছে অনুষ্ঠান মঞ্চ।
মিরপুর রোমান ক্যাথলিক চার্চ উৎসব কমিটির প্রবীণ কর্মকর্তা পল তেসরা বলেন, ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে চার্চে ‘খ্রিস্টের জাগরণ’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় মিরপুর খ্রিস্টান পল্লীর বড়দিনের উৎসব। প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো হাতে লেখা খ্রিস্টিয় সংকীর্তনের বই সামনে রেখে বড়দিন উপলক্ষে প্রভু যীশুর আরাধনা শুরু করেন খ্রিস্টান পল্লীর বাসিন্দারা।

মিরপুরের রোমান ক্যাথলিক চার্চের এটাই প্রাচীন রীতি। চার্চে মধ্যরাতের ক্যারল সং’র আদলে গাওয়া হয় এই গান। মিরপুরের বাঙালি পর্তুগীজরা খ্রিস্টানরা একে বলেন ‘মিশা গান’। এই মিশা গান ড্রাম, নাল, ক্যাসিও, হারমোনিয়াম সহযোগে ক্যারল সং’র আদলে গাওয়া হলেও শ্রীখোল ও করতাল এই গানে বাঙালিয়ানার মাধুর্য যোগ করে।
মিরপুরের সবচেয়ে পুরনো চার্চ হল এখানকার প্রোটেস্টান্ট চার্চ। এই চার্চের উৎসব কমিটির সদস্য জিমি তেসরা বলেন, ১৮৩৯ সালে এই চার্চ তৈরি করা হয়েছিল। এখানকার দুটি চার্চ কমিটি আলাদাভাবেই প্রতিবছর নানা অনুষ্ঠান উদযাপন করে।
মিরপুরের বাসিন্দারা বলেন,পয়লা জানুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন ধরে চলবে বড়দিনের উৎসব। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে আত্মীয়স্বজনরা এসে গিয়েছেন পল্লীর বাড়িগুলিতে। খ্রিস্টান পল্লীর প্রতিটি বাড়ির সামনে কেক তৈরির নানা উপকরণ কাজু, কিসমিস, আখরোট, মোরব্বা শুকনো করেছেন । অনেকে কেকও তৈরি করেছেন বড়দিনে আগত অভ্যাগতদের জন্য।

সোমবার রাতে মিরপুরে গিয়ে বাসিন্দাদের হাতে শীতবস্ত্র ও কেক তুলে দেন হলদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামলকুমার আদক, মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি শিউলি দাস, সহ সভাপতি তিলককুমার চক্রবর্তী।
তিলকবাবু বলেন, “পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি বছর মিরপুরের খ্রিস্টান বাসিন্দাদের জন্য বড়দিন উপলক্ষে শীতবস্ত্র ও কেক পাঠান। আমরা সেই উপহার মিরপুরের মানুষের হাতে তুলে দিয়েছি। এছাড়াও পঞ্চায়েত সমিতির তরফে দুটি চার্চ কমিটিকেই আর্থিক সহযোগিতা করেছি উৎসব চালানোর জন্য।”
তিনি বলেন, “মিরপুরের পাশাপাশি মহিষাদলের গান্ধী আশ্রমে বড়দিনে মেলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গান্ধীজি ১৯৪৫ সালের ২৫ডিসেম্বর মহিষাদলে এসেছিলেন। সেই উপলক্ষে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। গান্ধীজির জন্মসার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে এবার আয়োজন আরও বড় করা হয়েছে।”
The post বড়দিনের উৎসবে এই পর্তুগীজ পাড়ায় বেজে ওঠে শ্রীখোল করতাল appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2Q0QmuR
via IFTTT
Comments
Post a Comment