রাহুলের উত্থানে মোদীর মতোই চাপ হতে পারে মমতা-চন্দ্রবাবুদেরও

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: আর তাঁকে ‘পাপ্পু’ বলে হেয় করা যাবে না৷ অন্তত মঙ্গলবারের ভোটের ফল রাহুল গান্ধীকে ভারতের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে দিয়েছে ৷ তিনি কংগ্রেসের হাল ধরার বছরখানেকের মধ্যেই সক্ষম হলেন নরেন্দ্র মোদীর বিজয় রথকে বেশ কিছুটা প্রতিহত করতে ৷

২০১৯ সালের লোকসভা ভোট ফাইনাল হলে তা আগে এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার ভোটকে অনেকেই সেমিফাইনাল ধরেছিলেন৷ আর সেই সেমি ফাইনালে রাহুলের পারফরম্যান্স যথেষ্টই ভাল৷

বেশ কিছুদিন ধরেই মোদীকে সরাতে জোট বাঁধতে উৎসাহী বিভিন্ন বিরোধী দল৷ সেখানে প্রশ্ন দেখা যাচ্ছিল সেই বিরোধী জোটে বিজেপির মতো কংগ্রেসের সঙ্গে সমদূরত্ব রাখা হবে কি না? যদিও মোদীকে সরাতে কংগ্রেসকে সঙ্গী করতে জোর সওয়াল উঠতে থাকে৷ সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসই বার্তা দেয় অ-বিজেপি দলগুলির সঙ্গে জোটে তারাও আগ্রহী এমন কী ভবিষ্যতেভো সেই সব আঞ্চলিক দলের কোনও এক নেতা নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থনও দিতে পারে৷ কিন্তু সদ্য পাঁচ রাজ্যে বিধানসভার ফল কংগ্রেসের এমন ভাবে অনুকূলে গিয়েছে যে সেই জোট সমীকরণ বদলে দিতে পারে৷

পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা শিবরাজের

মঙ্গলবার ফলাফল জানাজানি হওয়ার পর বিরোধীরা দলগুলির নেতা নেত্রীরা বেশ খুশি আর তাদের হাবভাব যেন তারাই মোদীকে হারিয়েছেন ৷ বরং এই জয়ের কৃতিত্ব কংগ্রেস বা রাহুল গান্ধীকে দিতে কিছুটা যেন কুন্ঠা বোধ করছেন ওই সব নেতা নেত্রীরা৷ যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জয়কে মানুষের জয় অ্যাখ্যা দিয়েছেন৷ সেজন্য তিনি ‘গণতন্ত্র’, ‘ন্যায়’, ‘সুবিচার, ‘দরিদ্র কৃষক’, ‘যুবশক্তি’, ‘দলিত’, ‘পিছড়ে বর্গ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছেন৷ পরে সাংবাদিকরা কংগ্রেস বা রাহুলের প্রসঙ্গ তুলতে তখন নেত্রী জানান, ওখানে তো কংগ্রেসই শক্তিশালী ছিল ফলে তাদের জেতাটাই তো স্বাভাবিক৷ পাশাপাশি মনে করাতে চেয়েছেন ওখানে তাঁরা কংগ্রেসকে পূর্ণ সমর্থন করেছেন৷

শুধু মমতা নন চন্দ্রবাবু নাইডুও টুইটারে এই জয়ের জন্য জয়ীদের অভিনন্দন জানান৷ আলাদা করে রাহুল বা কংগ্রেসের কথা কিছু বলেননি৷ তবে রাহুল জয়ের পরে বিরোধী ঐক্য অটুট থাকার কথা বলেছেন৷ যদিও কংগ্রেসের সঙ্গে টিডিপির- জোট তেলেঙ্গনায় লড়তে নেমে তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস) কাছে একেবারে বিপর্যস্ত হয়েছে৷ এদিকে আবার মোদীর দল বিজেপিকে হঠাতে দুটি রাজ্যে চারটি বিধানসভা জিতেছে বামেরা। আর কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রকম জোট ছাড়াই এই জয় এসেছে ৷ ফলে এই ভোট ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে জোট থেকে লাভ কার কতটা হচ্ছে কারণ সেটাই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যতের সমীকরণ৷

পড়ুন: লক্ষ্মীবারেই শপথ নেবেন কেসিআর

এটা ঘটনা মোদীকে সরাতে গত কয়েক মাস ধরে বেশ কয়েকটি বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি যেমন জোট বাঁধার কথা বলতে শুরু করেছে তেমনই আবার ওই সব দলের নেতা নেত্রীদের নাম ঘোরা ফেরা করছে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায়৷ সেই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডু, মায়াবতীদের নাম অবশ্যই ঘুরপাক খাচ্ছে ৷ স্বাভাবিক ভাবেই রাহুল তথা কংগ্রেসের বাড়বাড়ন্ত হলে আঞ্চলিক দলগুলি তাদের গুরুত্ব হারাতে পারে কারণ তখন কমে যাবে তাদের দরাদরি করার ক্ষমতা৷

যদি ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হলেও সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন না পায় তখন বিজেপিকে আটকাতে আঞ্চলিক দলগুলির কোনও নেতা বা নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়ে সরকার গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ কিন্তু যদি কংগ্রেস একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায় সেক্ষেত্রে আঞ্চলিক দলগুলি সামগ্রিক দেশের রাজনীতিতে গুরুত্ব হারাবে৷ কারণ তখন কংগ্রেসের প্রতিনিধি অর্থাৎ রাহুল গান্ধীরই প্রধানমন্ত্রী হওয়াটা স্বাভাবিক৷
তবে পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলাফলের আগের দিনেই একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে ৷

পড়ুন: গণনা শেষ, মধ্যপ্রদেশ দখলে কংগ্রেসের চাই ২টি আসন

সিপিএমের নেতা তথা রাজ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুর সাত্তার দল বদলেছেন৷ যেখানে ইদানিং এ রাজ্যে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল ( রাজ্যে শাসক দল) অথবা বিজেপি ( কেন্দ্রে শাসক দল)-তে যোগ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যেত সেখানে সিপিএমের এই নেতাটি যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসে৷ ফলে বিভিন্নমহলকে ভাবাচ্ছে তবে কি এবার চাকা ঘুরছে কংগ্রেসের দিকে ?

The post রাহুলের উত্থানে মোদীর মতোই চাপ হতে পারে মমতা-চন্দ্রবাবুদেরও appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2QwLVNS
via IFTTT

Comments