বন্যা বিধ্বস্ত কেরলে পাহাড়ের খাঁজে আটকে বহু দেহ

ইদুক্কি: কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি গত ১০০ বছরে এত বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি কেরল৷ দাবিটাই সত্যি হচ্ছে প্রতিদিন৷ পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে, ভূমিধ্বসে আটকে রয়েছে বহু দেহ৷ যেখানে ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে, সেখানে মৃতদেহ আটকে থাকার সম্ভাবনায় আতঙ্কিত প্রশাসন৷ ইদুক্কির বেশিরভাগ পাহাড়ি এলাকায় আটকে দেহ৷ ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় পৌঁছতে পারছে না সেনা, উদ্ধারকারী দল৷ কেন্দ্রের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইটও করেছেন ইদুক্কির স্থানীয় লোকসভা কেন্দ্রের এক সাংসদ৷

ইদুক্কির প্রত্যন্ত এলাকার অধিকাংশই প্লাবিত৷ ত্রাণ শিবিরে অবস্থাও শোচনীয়৷ ত্রাণ শিবিরগুলিতে নেই ভাত,সব্জি৷ সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় মহিলারা৷ স্যানেটারি ন্যাপকিনের অভাব সংকট বাড়াচ্ছে৷ পর্যাপ্ত জামা-কাপড়ের অভাব ত্রাণ শিবিরগুলিতে৷ গত ৪দিন ধরে ইদুক্কির বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ পৌঁছয়নি৷ একমাত্র তামিলনাড়ুর ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ইদুক্কির বিভিন্ন এলাকায় মেডিক্যাল টিম পাঠাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে৷ ইদুক্কির প্রধান শহর কাট্টাপ্পানাতে ত্রাণ সংগ্রহের কাজ চলছে৷

ইদুক্কি প্রশাসন সূত্রে জানান হচ্ছে, এখনও এমন পরিবার বা কয়েকশো মানুষ আটকে আছেন, যাঁদের ইতিমধ্যে সাহায্যের প্রয়োজন৷ ঘরবাড়ি হারিয়ে রাতারাতি রাস্তায় এসে পড়া মানুষদের অনেকেই ত্রাণ শিবিরে পৌঁছতে পারছেন না৷ একমাত্র স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের ওয়্যারলেস ছাড়া যোগাযোগের কোনও পথ নেই৷ বন্যাবিপর্যস্ত বেশিরভাগ এলাকা বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে৷ পুলিশ, প্রশাসন পাশে থাকা সত্ত্বেও কোনওরকম সাহায্য করতে পারছে না৷ যে অঞ্চলে তারা পৌঁছতে পারছেন সেখানেই ত্রাণ যাচ্ছে৷

কেরলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে মুন্নর ও থেকাড্ডি ইদুক্কি জেলার অন্তর্গত৷ মুন্নরের দুটি বাঁধ কুলামাভু ও চেরুথনি থেকে ২৬ বছর পর জল ছাড়া হয়েছে৷ আর সেই কারণেই ইদুক্কির বেশিরভাগ অংশ ভেসে গেছে৷ তাড়াতাড়ি ত্রাণ না পৌঁছলে, চিকিৎসা না শুরু হোলে, ইদুক্কি মহামারির মুখে পড়তে পারে৷ উদ্ধারকারী দল না পৌঁছলে মৃত স্বজনদের দেহও পাবেন না অনেক পরিবার বলে আশঙ্কা৷ সবমিলিয়ে ইদুক্কি জুড়ে হাহাকার৷

The post বন্যা বিধ্বস্ত কেরলে পাহাড়ের খাঁজে আটকে বহু দেহ appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2MFmLdb
via IFTTT

Comments