দিঘায় মাঝিদের জালে ২০ ফুটের হাঙর

স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: সমুদ্র বলতে মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে বেশ কয়েকটি প্রাণীর নাম৷ আর সেই সব প্রাণীর মধ্যে অন্যতম হল দানব রূপী হাঙর৷ এই নাম শুনলে কমবেশি সকলেরই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভয়াবহ সব দৃশ্য৷

কিন্তু এই দৃশ্যই দিনে দিনে পালটাতে বসেছে৷ ক্রমশ সমুদ্র থেকে বিলুপ্ত হয়ে চলেছে হাঙর প্রজাতিরা। বর্তমানে মানুষের ভয়ে সর্বদা অস্থির হয়ে থাকে তারা। মাঝেমধ্যেই মানুষের হাতে শিকার হতে হয় তাদের৷ কিন্তু কেন? সেই কারণ জানতে গিয়েই উঠে এল অন্য তথ্য৷

আরও পড়ুন: চিন্তা বাড়িয়ে ফের কমল টাকার দাম, প্রতি ডলারে ৭০.০৯

বঙ্গোপসাগরের দিঘা উপকূলে এখন প্রায় রোজই হাঙর নিধন হয়। কাঁথি মহকুমা উপকূলের চার হাজারেরও বেশি মাছ ধরার ট্রলারের জালে প্রায়ই আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে ছোট-বড় হাঙর। এরপরই মঙ্গলবার দিঘা মোহনায় ওঠে প্রায় ২০ ফুট লম্বা বিশালাকার হাঙর। ‘ডগ সার্ক’ প্রজাতির এই হাঙর প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায় দিঘা উপকূলে। তবে এই ‘ডগ সার্ক’ বিপন্ন প্রায় প্রজাতির মধ্যে পড়ে না।

কিন্তু শুনলে অবাক হবেন এদের মাংস, চামড়া আর দামী তেলের কারণেই প্রায় এদেরকে মানুষের শিকারে পরিণত হতে হয়। তাই যে কোনও সময় এরাও বিলুপ্ত প্রায় হাঙরদের তালিকায় পড়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা থেকে যায়। ডগ সার্ক ছাড়া দেদার ধরা পরে স্পাইন্ড পিগমি সার্ক, গ্রে ব্যাম্বু সার্ক, কাউটেল সার্ক, হোয়াইট চিকড সার্ক প্রজাতির ছোট হাঙররা। এসব হাঙর মূলত শুঁটকি করে বিদেশে পাঠানো হয়। অথচ সরকারি ভাবে নিষেধ রয়েছে হাঙর শিকারের ওপর।

আরও পড়ুন: মাদক পাচার চক্রে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার তিন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামুদ্রিক মাছের ডিম থেকে কোটি কোটি পোনা হলেও হাঙর একেবারেই ব্যতিক্রম। ১০ থেকে ১২ বছরে হাঙর প্রাপ্ত বয়স্ক হয়৷ দুই থেকে ১৬ টি বাচ্চা দেয় তারা। এই কারণে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে না। কিন্তু দিঘা উপকূলে মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে হাঙর বিলুপ্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একের পর এক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

এই প্রসঙ্গে সামুদ্রিক জীব গবেষকরা বলেন, ‘‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মাঝিদের জালে অনেক সময়ই সামুদ্রিক প্রাণীরা আটকে যায়৷ এমনকি জালে আটকে পড়ে ডিম পাড়তে আসা মা কচ্ছপরাও৷ কখনও কখনও পাড়ে আসার আগেই মৃত্যু হয় তাদের৷ তেমনি ২০০ গ্রাম থেকে তিন মণ ওজনের অসংখ্য হাঙরও ধরা পড়ছে মৎস্যজীবীদের জালে। ইলিশের মতো আইন করে হাঙর নিধন বন্ধ করাও বিশেষ জরুরী।’’

আরও পড়ুন: নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পার্লামেন্টের বাইরে গাড়ির ধাক্কায় আহত পথচারীরা

প্রসঙ্গত, মৎস্যজীবীদের হানায় গভীর সমুদ্রে খাদ্য-শৃঙ্খলে টান পড়ছে। বিপন্ন হচ্ছে সমুদ্রের জীব বৈচিত্র্য। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হাঙর চোরা শিকার এত বাড়ছে কেন? পাইকারি বাজারে এর দাম খুব একটা বেশি নয়। কোথাও ১০ টাকা আবার কোথাও বা ২০ টাকা কেজি।

তবে বিদেশের বাজারে এর চাহিদা আকাশছোঁয়া। হাঙরের পাখনার সুপ পৃথিবীর অনেক দেশেই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। আর সেই খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এত বেশি হাঙর শিকার করা হচ্ছে৷ একটি বিশেষ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় এক হাজারেরও বেশি হাঙর প্রজাতি এখন পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে।

আরও পড়ুন: এবার বিশ্বভারতীতে পরীক্ষা পড়ুয়াদের অবস্থান-বিক্ষোভ

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত পাখনার জন্যই গোটা পৃথিবীতে প্রতি ঘণ্টায় ১১ হাজারেরও বেশি হাঙর মারা পড়ছে। এমন চলতে থাকলে বর্তমানে কনড্রাইকথিল প্রজাতির যে ১০৪১ রকম হাঙর পৃথিবীতে রয়েছে, তার ৩১৩ টিকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না।

এই অবস্থায় রাজ্যেও হাঙর রক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। আর তা না হলে সমুদ্রের বাকি বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর মতো হাঙরও একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে।

আরও পড়ুন: সীমান্তে ভারত-পাক মিষ্টিমুখ

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১০ সালের পর থেকে আমাদের রাজ্যের উপকূল থেকে সবচেয়ে বেশি হাঙর ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মৎস্যজীবীরা হাঙর শিকারের অভিযোগ মানতে নারাজ। এই বিষয়ে দিঘা ফিশারমেন এন্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘‘দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে চালানের জন্য হাঙর শিকার করা হলেও দিঘা উপকূলে সে সব হয় না। অন্য মাছ ধরতে গিয়ে মাঝেমধ্যে জালে ওঠে হাঙর।’’

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ল ভারতীয় কোচের

The post দিঘায় মাঝিদের জালে ২০ ফুটের হাঙর appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2P7PuFM
via IFTTT

Comments