‘আদর্শের সঙ্গে সমঝোতা করেননি সোমনাথ’, দলমত নির্বিশেষে সকলেই একমত

প্রয়াত লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সকাল ৮.১৫ নাগাদ বেলভিউ নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করেছে। দলমত নির্বিশেষে সবাই তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন।

প্রণব মুখোপাধ্যায় (প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি): উনি অসাধারণ সংসদ বিশেষজ্ঞ ছিলেন৷ আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন৷ ওর মৃত্যুতে আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি হল৷

গুরুদাস দাসগুপ্ত (সিপিআই নেতা): খুবই দুঃখের সংবাদ৷ উনি যখন সাংসদ ছিলেন তখন মানুষের কথা সংসদে বলতেন৷ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন৷ পরে যখন অধ্যক্ষ হলেন ওনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি৷ সব দলের সঙ্গে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ভালো ছিল৷ পার্লামেন্টের সেশন বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। লোকসভার অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।সংসদ অচল করা পছন্দ করতেন না৷ প্রতিবাদ জানাতেন৷তিনি যেভাবে সংসদ চালিয়েছেন সেটা ইতিহাসে উল্লেখ থাকবে৷

সুখেন্দুশেখর রায় (রাজ্যসভার সাংসদ, তৃণমূল): বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিক সংগঠনের মামলা বিনা পয়সায় লড়েছিলেন সোমনাথ দা। লোকসভায় ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। ঘুষ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ ওঠার পর কমিটি গড়ে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।

সুব্রত মুখোপাধ্যায় (তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী): সোমনাথ দার চলে যাওয়া নক্ষত্রপতন৷দলের উর্দ্ধে গিয়ে তিনি দেশের কথা ভাবতেন৷রাজনৈতিক জগতে এই ক্ষতি কোনওদিন পূরণ হবে না৷ সব রাজনীতিবিদদের কাছে সোমনাথদা প্রণম্য৷

মহঃ সেলিম (সিপিএম নেতা ও সাংসদ): দলে তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো। কোনও ভুল হলে ধমকও দিতেন রাজনীতির শিক্ষা পেয়েছি সোমনাথদার কাছ থেকে।

বাসুদেব আচারিয়া (সিপিআই নেতা): দলের বাইরে থাকলেও সুসম্পর্ক ছিল৷ নিরপেক্ষ হয়ে তিনি সংসদ চালিয়েছেন৷ সংসদীয় গণতন্ত্রে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা অবিস্মরণীয়৷

সোমেন মিত্র: অধ্যক্ষ থাকাকালীন সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন৷ অধ্যক্ষ হিসেবে অত্যন্ত নিরপেক্ষ ছিলেন তিনি৷ ওনার আত্মার শান্তিকামনা করি৷ ওনার পরিবারকে সমবেদনা জানাই৷

সূর্যকান্ত মিশ্র (রাজ্য সম্পাদক, সিপিএম): দলের সঙ্গে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু, তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি দলের ঊর্ধ্বে। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য যাঁরা লড়াই করছেন, এটা তাঁদের কাছে একটা বড় ক্ষতি।

অধীর চৌধুরী (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি): আমার খুব খারাপ লাগছে যে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো এত বড় মাপের একজন ব্যক্তিত্ব আমাদের মধ্যে আর নেই। বাংলার একজন স্বাধীন মনোনশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমার কাছে পরিচিত তিনি। সোমনাথবাবু নিজের নীতি, আদর্শের কাছে কখনও সমঝোতা করতে শেখেননি। বারবার তাঁর কর্মপদ্ধতির মধ্যে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কী ভাবে দেশ জাতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভারতবর্ষের একটা জাতীয় সম্পদ আজ আমরা হারালাম।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (অধ্যক্ষ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা): সোমনাথবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে সত্যিই মর্মাহত হয়েছি। আমাদের পরিষদীয় রাজনীতিতে বিশেষ করে সংসদীয় রাজনীতির সম্মান রক্ষায় তাঁর যে অবদান তা অনস্বীকার্য। শুধু তাই নয় সাংসদদেরও সম্মান করতে তিনি জানতেন। উনি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

দিলীপ ঘোষ (রাজ্য সভাপতি, বিজেপি): সোমনাথবাবু বাংলার রাজনীতিতে একজন স্তম্ভ ছিলেন। কমিউনিস্ট হলেও কমিউনিস্ট বিচারধারার বাইরে একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যু গোটা রাজনীতিতে বিরাট ক্ষতি। এখন এই ধরনের রাজনীতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সেটা খুব দুঃখজনক।

আব্দুল মান্নান (বিরোধী দলনেতা): আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। ভারতবর্ষের সংসদীয় ইতিহাসে সাংসদ হিসেবে এবং অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর ভূমিকা দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে প্রশংসীয়।

শমীক লাহিড়ি (সিপিএম নেতা): আমি শোকস্তব্ধ৷ মাত্র দেড়মাস আগে আমার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছিল৷দলের সঙ্গে যখন ওর সম্পর্ক ছিল না তখনও দেখেছি কাছে দলের অনেককেই ওর কাছে পরামর্শ চাইতে যেত৷

The post ‘আদর্শের সঙ্গে সমঝোতা করেননি সোমনাথ’, দলমত নির্বিশেষে সকলেই একমত appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2OuHJIM
via IFTTT

Comments