ওঁদের হাত ধরেই কুমোরপাড়ায় চলছে ‘women empowerment’

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : চায়না পাল, মালা পাল, কাকলি পাল। এদের সৌজন্যেই এগিয়ে যাচ্ছে কুমোরটুলির মহিলা ব্রিগেড। ওঁদের দেখেই মৃৎশিল্পে এগিয়ে আসছেন মেয়েরা। ভাঙছে কুমোরটুলির পুরনো পুরুষতন্ত্র। চায়না, মালাদের আশা একদিন ছেলেদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে ঠাকুর গড়বে মেয়েরা।

শুরুটা হয়েছিল কামাক্ষ্যাবালা পালের হাত ধরে। তখন তিনি একমাত্র মহিলা শিল্পী ছিলেন কুমোরটুলির। রাসের নানারকম মাটির খেলনা থেকে শুরু করে কৃষ্ণের ছোট ছোট মূর্তি বানাতেন তিনি। মালা পাল বলেন, “উনি আমার দাদাকে বলতেন মেয়েরা কেন মাটির কাজ করবে না আমি সেটা বুঝি না। পারবে না বলে কোনও কথা নেই। কাজ করলেই পারবে। কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। ওটাই আসল।” কামাক্ষ্যাবালা পাল আজ নেই। বছর দশ বারো আগে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গিয়েছেন। তার স্টুডিয়ো এখন কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির দায়িত্বে চলে গিয়েছে। সেখানে অন্য এক শিল্পী স্টুডিয়ো হতে পারে বলে কথাবার্তা চলছে বলে খবর। কামাক্ষ্যাবালা দেবীর রেখে যাওয়া ব্যাটনটাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন ওঁরা তিন জন। চায়না, মালা , কাকলি।

চায়না পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বাবাকে দেখেছি ঠাকুর গড়তে। তখন নব্বইয়ের দশক। বাবা মারা গেলেন। বাবার কাজ আমি হাতে নিলাম। অনেকে সেই সময় ভ্রু কুঁচকেছে। আজ তাদেরই অনেকে বাহবা দেয়।” একইসঙ্গে তিনি বলেন , “কিছুদিন আগে চিনে গেলাম হস্তশিল্প মেলায়। ভারতের একমাত্র মৃৎশিল্পী ছিলাম আমি। পরে ওখান থেকে কয়েকজন এসে আমার থেকে কাজ শিখে গিয়েছে।” বেশ কিছু ওয়ার্কশপ করান চায়না পাল। সেখানে মেয়েদের নিজে হাতে করে শিখিয়ে দেন কিভাবে প্রতিমার মুখ তুলতে হয়, মূর্তিতে মাটি ধরাতে হয়। শিখিয়ে দেন আঙুল তৈরিও।

মালা পালের যাত্রাটাও শুরু হয়েছিল বাবা মারা যাওয়ার পর। দাদার সঙ্গে হাতে হাতে কাজ শেখা ছোট্ট মালা এখন প্রতিষ্ঠিত মৃৎশিল্পী। স্কুল, কলেজ থেকে ছাত্রীরা এসে তার কাছ থেকে দুর্গা গড়ার পাঠ নেয়। কুমোরটুলির অনেক মেয়েই এখন এই পেশাতে আসছেন। এদের মধ্যে অন্যতম সোমা পাল, বাসন্তী পাল, ভারতী পাল। কয়েকজনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কাজের প্রতি ভালোবাসা রয়ে গিয়েছে। দুর্গা পুজোর সময় মূর্তি গড়তে চলে আসেন কুমোরটুলিতে।

কাকলি পালের মূর্তি গড়া শুরু সংসারের হাল ধরার জন্য। ২০০৩ সালে হঠাৎ করেই স্বামী মারা যান।কাকলি পাল বলেন, “ঠাকুরের অর্ডার নেওয়া হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি দুই মেয়ে রয়েছে। কিভাবে সংসার টানবো? বাবার থেকে মাটির কাজ শিখেছিলাম। সেই শেখা কাজে দিচ্ছে এখন।” বছরে কুড়ি থেকে বাইশটি দুর্গা যায় কাকলির স্টুডিয়ো থেকে। জায়গার অভাব রয়েছে। তাই কিছু অর্ডার ছেড়েও দিতে হয়। কাকলি বলেন, “মেয়েরা মাটির কাজ করতে পারবে না এই ধারনাটা এখন বদলানো গিয়েছে।” আরও মেয়ে শিল্পীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা তাঁর।

বদলাচ্ছে কুমোরটুলি। এই পেশাতেও ভেঙে চুরমার হচ্ছে পুরুষতন্ত্র। কুমোরটুলির দুর্গা এখন যেন সত্যিই ‘সার্বজনীন’।

The post ওঁদের হাত ধরেই কুমোরপাড়ায় চলছে ‘women empowerment’ appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2AKlxZ1
via IFTTT

Comments