ভোটের লক্ষ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী নিয়ে মতুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি: কংগ্রেস
স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের মতুয়া ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশই এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে৷ এবার লোকসভা নির্বাচনে সেই ভোট ব্যাংককে টার্গেট করেছে বিজেপি৷ ফেব্রুয়ারি মাসেই মতুয়া মহাসঙ্ঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনীর পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ আর বিজেপির এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করছে কংগ্রেস৷
প্রতিবেশী মুসলিম প্রধান দেশগুলি যেমন পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হওয়া হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-শিখ এবং পার্সি শরণার্থীদের ভারতের নাগরিক করতে উদ্যোগী বিজেপি সরকার৷ এর জন্য দেশের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী বিল আনতে চাইছে কেন্দ্র৷ এর জেরে উত্তপ্ত উত্তর পূর্ব ভারত৷ অভিযোগ উঠেছে, ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতের সংবিধান ভেঙে দিয়ে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিক করার প্রক্রিয়া চালু করতে চায় বিজেপি৷
পশ্চিমবঙ্গে মতুয়াদের বড় অংশই বাংলাদেশ( আগে পূর্ব পাকিস্তান) থেকে আসা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পড়েন। এই মতুয়াদের যারা এখনও নাগরিক হতে পারেননি৷ তাদের ভারতীয় করতে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি৷ অভিযোগ, ভোটের লক্ষ্যে এই বিলকে ইস্যু করে কংগ্রেস ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার করছে গেরুয়া শিবির৷
বর্ষীয়ান প্রদেশ কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, এই বিলের কথা বলে বিজেপি মতুয়াদের কাছে টানতে চাইছে৷ কিন্তু মতুয়ারা বুঝতে পারছে না বিজেপি যে কথাটা বলছে সেটা মিথ্যে কথা৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ করানোর জন্য যে প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল মোদী সরকার নেয়নি৷ আমি জয়েন্ট পার্লামেন্ট কমিটির সদস্য ছিলাম ৷ আমরা যে পরামর্শ দিয়েছিলাম সেটা বিজেপি সরকার মানেনি৷ আমরা বারবার বলেছিলাম মতুয়াদের কাছে চলুন৷ তাঁদের মতামত গ্রহণ করুন৷ কিন্তু বিজেপির কেউ তো সেটা করলেনই না আমাদেরকেও যেতে দিলেন না৷ বিল নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে৷ মিথ্যে প্রচার করা হচ্ছে৷
প্রদেশ কংগ্রেসের আরও এক নেতা শুভঙ্কর সরকার বলেন, ভারতের নাগরিকদের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টাই হচ্ছে নাগরিকত্ব বিল৷ বিজেপি চাইছে ওদের যাঁরা সমর্থক হবেন তাঁরাই দেশের নাগরিক হবেন বাকিরা নাগরিক নয়৷ মতুয়া সম্প্রদায় বুঝতে পারছেন মোদী কি চাইছেন৷ মতুয়া ভোট বিজেপি পাবে না৷
উল্লেখ্য, বিলটিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা, যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে ভারতে এলে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের এই সংশোধনীতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসা সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এ দেশে ছ’বছর বাস করলেই ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০১৬ সালে অসম বিধানসভা ভোটের আগে ওই সংশোধনী পেশ করা হয় লোকসভায়।
ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তোলে বিরোধীরা। অসমেও বিলটি ঘিরে শুরু হয় বিরোধিতা। এর পর বিক্ষোভ ছড়ায় মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও অরুণাচলে৷ বিলের বিরোধিতায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব রাজ্যের সরকার সরব৷ বিজেপির সঙ্গে থাকলেও একাধিক মুখ্যমন্ত্রী প্রবল হুমকি দিয়েছেন৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ চলাকালীন গত জানুয়ারিতে ত্রিপুরায় উপজাতি জনগোষ্ঠীর উপরে গুলি চলে৷ জখম হন ৬ জন৷ তার জেরে ছড়িয়েছে প্রবল ক্ষোভ৷ অন্যদিকে বিলটি পাশ হলে অসমে অসমিয়ারই সংখ্যালঘু হয়ে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কায় পথে নামে একাধিক রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠন।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে আপত্তি জানিয়েছে। জেপিসি সদস্য, তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায় ধর্মের ভিত্তিতে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিবাদ জানান। তাঁকে সমর্থন করেন কংগ্রেসের সুস্মিতা দেব, সিপিএমের মহম্মদ সেলিমরা।
ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসংঘের সভায় এসে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে মমতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- এখানকার মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য কী করছেন? এরা ‘ভারত মা কী জয়’ বলে। ভারতে থাকতে চায়। তাদের কেন ভারতের নাগরিক করলেন না? আমি কথা দিচ্ছি, মতুয়া সম্প্রদায়ের কথা মন দিয়ে শুনে ব্যবস্থা নেব।তৃণমূলকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ছিল— নাগরিকত্ব বিল আটকাবে না, এই বিলকে সমর্থন করুন, রাজ্যসভায় পাশ হতে দিন। কিন্তু কংগ্রেস সহ বিরোধীদের দাবি, এখানেই ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করছেন মোদী৷
The post ভোটের লক্ষ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী নিয়ে মতুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি: কংগ্রেস appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2JvVhX2
via IFTTT
Comments
Post a Comment