তিনসুকিয়ার ঘটনায় ভয়ে কাঁপছে শোণিতপুর, কোকরাঝাড়

বিশেষ প্রতিবেদন: আসছে সেই ডিসেম্বর মাস৷ তার মানেই সেই ভয়াবহ মুহূর্ত তাড়া করবে৷ বড়দিনের উৎসবের মাঝেই যেভাবে রক্তাক্ত হয়েছিল অসমের শোণিতপুর-কোকরাঝাড়, তাতে শিউরে গিয়েছিলেন দেশবাসী৷ বড়দিনের উৎসব এলেই সেই ভয়টা তাড়া করে৷ বৃহস্পতিবার তিনসুকিয়ায় গণহত্যা চালানো হয়েছে৷ জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৫ বাংলাভাষী৷ এর জেরে অসম জুড়ে ছড়িয়েছে প্রবল আতঙ্ক৷

তিনসুকিয়ায় হামলার দায় নেয়নি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আলফা (স্বাধীনতা) সংগঠন৷ বিবৃতি দিয়ে তারা একথা জানিয়েছে৷ তবে এর আগে গুয়াহাটির ফ্যান্সি মার্কেটে দুর্গাপূজার ঠিক আগে বিস্ফোরণের দায় তারা নিয়েছিল৷

পড়ুন: রক্তাক্ত অসম: চিন থেকেই হামলার ছক?

তিনসুকিয়া জেলায় আগেও নাশকতা হয়েছে৷ আলফা সংগঠন এখানে শক্তিশালী৷ ঠিক তেমনই রাজ্যের কোকরাঝাড় ও শোনিতপুর জেলায় ক্ষমতাবান বোড়ো জঙ্গি সংগঠন এনডিএফবি(সংবিজিৎ)৷ এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বর্তমান সুপ্রিম কমান্ডার আই কে সংবিজিৎ৷ সে বোড়ো জনগোষ্ঠীর কেউ নয়৷ তবুও তার নেতৃত্বেই চলছে এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠন৷ এনডিএফবি(সং.) গোষ্ঠীর হামলায় বারে বারে রক্তাক্ত হয়েছে অসম৷

এনআরসি (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) তালিকায় বোড়ো জঙ্গি নেতাদের নাম উঠলেও এই জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ নাগরিক তালিকায় বাতিল হয়েছেন৷ এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই এনডিএফবি সরাসরি হুমকি দেয় এনআরসি-র প্রয়োগ ঠিকমতো না হলে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা হবে৷ হুমকির পর থেকেই ভীত অসমে বসবাসকারী অ-অসমীয়ারা৷ এদের অনেকেই বাংলা ও হিন্দিভাষী৷ বোড়ো জঙ্গিদের ‘সফট টার্গেট’ তারাই৷ বিভিন্ন হামলার ঘটনায় তার প্রমাণ দিয়েছে এই জঙ্গি সংগঠন৷

তিনসুকিয়ায় বাংলাভাষী ৫ জনকে নিশ্চিন্ত খুন করে গা ঢাকা দিয়েছে হামলাকারীরা৷ ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে পড়েছিল নিহতদের দেহ৷ আর বছর ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে হাজির হয়েছিল এনডিএফবি(সংবিজিৎ) গোষ্ঠী৷ একই দিনে তাদের হামলায় শোনিতপুর, চিরাং ও কোকরাঝাড়ে মৃত্যু হয় ৮০ জনেরও বেশি৷ নিহতদের বেশিরভাগ আদিবাসী ও শিশু৷ সারি সারি মৃতদেহ সেদিন পড়েছিল মাটিতে৷ বড়দিনের উৎসব পালিত হওয়ার আগেই জাতিগত বিদ্বেষের জেরে রক্তাক্ত হয়েছিল দেশ৷ ২০১৬ সালে বোড়ো জঙ্গিদের হামলায় ফের রক্তাক্ত হয়েছে কোকরাঝাড়৷ অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়৷

আরও পড়ুন: বোড়ো না হয়েও বোড়োল্যান্ডের ‘রক্তচোষা বাদুড়’ সংবিজিৎ

১৯৮৬ সালে বোড়ো জঙ্গি সংগঠন এনডিএফবি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অসমের জঙ্গি তৎপরতা দ্বিমুখী খাতে বইতে শুরু করে৷ একদিকে আলফা অন্য দিকে এনডিএফবি বারে বারে নাশকতা চালিয়েছে৷ দুই সংগঠনই পৃথক স্বশাসিত অঞ্চলের দাবি করে আসছে৷ পরে এনডিএফবি ভেঙেছে, নতুন সংগঠনের দায়িত্ব গিয়েছে মোস্ট ওয়ান্টেড আই কে সংবিজিতের হাতে৷ আর আলফা ভেঙে তৈরি হয়েছে আলফা (স্বাধীনতা)৷ এর দায়িত্বে পরেশ বড়ুয়া৷ অন্যদিকের সংগঠনটির নরমপন্থী নেতারা পরে আত্মসমর্পণ করে৷ এনআরসি জারি হওয়ার পর সেই নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই অসমে থাকা বাঙালি বিদ্বেষী মন্তব্য করে আসছে৷ তবে তাদের তখন আটক করেনি সরকার৷ অভিযোগ, তিনসুকিয়ায় গণহত্যার ঘটনায় মুখরক্ষা করতেই আলফার দুই তেমনই নেতা মৃণাল হাজারিকা ও জীতেন দত্তকে গ্রেফতার করেছে৷

তিনসুকিয়া রক্তাক্ত৷ নতুন করে রক্ত ঝরার ভয়ে ত্রস্ত শোনিতপুর ও কোকরাঝাড়৷

The post তিনসুকিয়ার ঘটনায় ভয়ে কাঁপছে শোণিতপুর, কোকরাঝাড় appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2CWzDWI
via IFTTT

Comments