‘পদে আছি, অথচ ডাকা হয় না’, ক্ষোভ তৃণমূলের অন্দরে
স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আগামী ৩০ নভেম্বর বর্ধমানের পুলিশ লাইন মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সভা৷ আর সেই সভাকে ঘিরে তৃণমূলের প্রস্তুতি সভায় চলল অভিযোগ আর দোষারোপের পালা। মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে তৃণমূল জেলা কংগ্রেসের ডাকে বুধবার বর্ধমানের টাউন হলে আয়োজন করা হয়েছিল প্রস্তুতি সভা। আর এই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান শহর সভাপতি অরূপ দাস জানিয়েছেন, তাঁকে পদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁকে দল কোনও মর্যাদা দেয়নি।
তাই এর আগেও তিনি এই পদ থেকে তাঁকে নিষ্কৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। এদিনও অরূপবাবু টাউনহলের সভায় বলেন, ‘‘আমি পদে আছি। অথচ দলীয় কোনও কর্মসূচীই জানানো হয় না। ডাকাও হয় না। তাই এই পদে আর থাকতে চান না।’’ জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথের কাছে এদিনও তিনি পদ থেকে অব্যহতি চান।
অপরদিকে, বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস রীতিমতো হুংকার দেন। জানান, যারা পদ পাওয়ার জন্য, কেউ কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার জন্য দরবার করছেন৷ তারা নিজের এলাকা থেকেই লোক জড়ো করতে পারছেন না৷ ৩০ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর সভার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য এদিন তিনি জেলা সভাপতির কাছেও আবেদন রাখেন।
একইসঙ্গে তিনি এদিন জানান, এতদিন যেভাবে তাঁরা ভোট করেছেন লোকসভায় সেভাবে ভোট করা যাবে না। তাই এখন থেকেই সাবধান হতে হবে। যারা কেবল পদ পাওয়ার জন্য দল করছেন, দলের সভাপতির নির্দেশ মানছেন না, তাদের দলে থাকার দরকার নেই। দল ছেড়ে দিন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী দলের পুরনো কর্মীদের ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। দলনেত্রী নির্দেশ দেন সকলকে নিয়েই কাজ করার।
অন্যদিকে, বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন জেলার অপর এক সাধারণ সম্পাদক উত্তম সেনগুপ্ত এদিন এই সভায় বলেন, ‘‘দলের নির্দেশ না মেনে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে নির্বাচন হয়েছে। দলের সভাপতিকে মান্যতা না দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে। যার জন্য সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।’’ দ্রুত নিজের এই অভ্যাস ত্যাগ করার আবেদন জানান তিনি।
উত্তমবাবু এদিন সিপিএমের নিয়মানুবর্তিতার প্রসঙ্গও তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘সিপিএমে যে নিয়মানুবর্তিতা, যে শৃঙ্খলা ছিল তা তৃণমূলে নেই। অথচ দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা বিশেষ প্রয়োজন। সিপিএম একজন চোরকে সাধু বললে তাঁকে সাধু হিসাবেই দেখা হত। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্যই সবাই আছেন। তাই দলের প্রয়োজনে নিজেদের আমিত্বকে ত্যাগ করতে হবে।’’
এদিকে, আগামী ৩০ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এদিন থেকেই জোরদার প্রস্তুতি শুরু করে দিল শাসকদল। এদিনের প্রস্তুতি সভা থেকে বর্ধমান ১ ও বর্ধমান ২ নম্বর ব্লক থেকে ১ লক্ষ জমায়েতের নির্দেশও দেওয়া হল। এদিন বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারি সভাধিপতি দেবু টুডু, বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক উত্তম সেনগুপ্ত, খোকন দাস ছাড়াও অন্যান্যরা৷
পাশপাশি, হাজির ছিলেন জেলার ২৩ টির মধ্যে ১১ টি ব্লকের সভাপতিরাও। এদিন সভায় স্বপনবাবু প্রতিটি ব্লক থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে সভাস্থলে হাজির করার নির্দেশ দেন। পরে সাংবাদিক বৈঠকে স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওই দিন উপভোক্তাদের যেমন হাজির করা হবে তেমনই সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সভায় হাজির হবেন।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সভায় লোক জমায়েত করা নিয়ে ফের বিভিন্ন রুট থেকে বাস তুলে নেওয়া হবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ব্যাপারে স্বপনবাবু সাফ জানিয়েছেন, সভায় বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষকে আসতে হলে তারা তো গাড়িতেই আসবেন। এক্ষেত্রে তাদের কিছু করণীয় নেই।
The post ‘পদে আছি, অথচ ডাকা হয় না’, ক্ষোভ তৃণমূলের অন্দরে appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2zl4J85
via IFTTT
Comments
Post a Comment