চলে গেলেন প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী মণীন্দ্রনাথ রায়
কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: ৯৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন রায়গঞ্জের প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী মণীন্দ্রনাথ রায়। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুখে ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তার বাড়ি রায়গঞ্জে শহরের মিলন পাড়া এলাকায়। বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়৷ তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
তাকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাম্রপত্র দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছিল। তিনি বহুবার জেলও খেটেছেন।
এই বছরই স্বাধীনতা দিবসের আগে রায়গঞ্জের মিলন পাড়ার জরাজীর্ণ বাড়ির বারান্দায় বসে কিছুটা নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলেন ৯৫ বছর বয়সী স্বাধীনতা সংগ্রামী মনীন্দ্রনাথ রায়৷ সেই সঙ্গে এই বছরের স্বাধীনতা দিবসের দিন তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিয়ে তাঁর সেই সব পুরনো দিনের কথাও শোনান৷
১৯২৩ সাল, স্বদেশী আন্দোলনে উত্তাল অবিভক্ত ভারতবর্ষ। সেই সময়েই বাংলাদেশের পাবনা জেলার হাটুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মণীন্দ্রবাবু। জন্ম থেকেই পিতৃহারা মণীন্দ্রবাবুকে কাছে টেনে নেন জ্যাঠামশাইরা। লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের উত্তপ্ত পরিবেশ কেমন যেন অস্থির করে তুলছিল কিশোর মনটাকে। বিদেশী দ্রব্য বর্জন আন্দোলনে উত্তাল আ-সমুদ্র হিমাচল প্রায় প্রতিটি মানুষের মুখে তখন একটাই গান ‘‘ভেঙ্গে ফেল রেশমি চুড়ি ও বঙ্গ নারী…’’৷ আর এই সবকিছুই রক্তে দোলা লেগেছিল কিশোর মণীন্দ্রর।
এর পর নানা আন্দোলনে সামিল হতে হতে অচিরেই স্বদেশী আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন ১৬ বছরের মণীন্দ্রচন্দ্র রায়। ষোল বছর বয়সেই জেলা শাসক তার ওপর রেসট্রিকশন অফ মুভমেন্ট অর্ডার জারি করেন। ১৯৪২ সালে প্রথম ডিফেন্স অফ ইন্ডিয়ান রুলে জেলে যেতে হয় মনীন্দ্রবাবুকে। জেলে বসেই ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন তিনি। জেল থেকে বেড়িয়ে শুরু হয় আরও বেশি করে অংশ নিতে থাকেন স্বদেশী আন্দোলনে।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শে অনুপ্রাণিত বেপরোয়া যৌবন মন তখন বেছে নেয় অহিংস আন্দোলনের কঠিন পথকেই। দু’চোখে স্বপ্ন তখন ইংরেজ শাসনের হাত থেকে মুক্ত ভারত আর হৃদয় জুড়ে নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজের পদধ্বনি ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’৷ অচিরেই বেপরোয়া মনটাকে বেসামাল করে দিয়েছিল এই শব্দগুলি। এরপর লাগাতার নানা আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ক্রমান্বয়ে চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিল ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীর।
১৯৪৬ সালে দমদম সেন্ট্রাল জেলে থাকাকালীন একবার গান্ধীজী স্বয়ং তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তখন তার সঙ্গে অন্যান্য বন্দিদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিন বিহারি গাঙ্গুলি, সোমেন ঠাকুর, কালিপদ মুখোপাধ্যায়, অশোক ঘোষ প্রমুখ ব্যক্তিরা।
বুধবার তার শেষ যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ পুরসভার কাউন্সিলর সন্দীপ বিশ্বাস সহ অগন্তি সাধারণ মানুষ। সন্দীপবাবু বলেন, ‘‘উনিই ছিলেন শহরের সবচেয়ে প্রবীণ জীবিত স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনিও আজ চলে গেলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী বলতে আর কেউ রইলো না। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত হয়ে পড়েছি৷’’
The post চলে গেলেন প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী মণীন্দ্রনাথ রায় appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2OWBZHq
via IFTTT
Comments
Post a Comment