বিদ্যুৎ চুরি রুখতে জনসংযোগই হাতিয়ার মমতার প্রশাসনের
স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বিদ্যুৎ চুরি রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নড়েচড়ে বসল রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ। সোমবার এ নিয়ে পূর্ব বর্ধমানে বৈঠকও সেরে ফেললেন প্রশাসনের আধিকারিকরা৷ সেখানে জনসংযোগ বাড়িয়ে এই সমস্যা মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে৷
প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্ধমান জেলায় বিদ্যুৎ দফতরের ২৭টি সেক্টর অফিস রয়েছে৷ এর মধ্যে ১১টি এলাকায় হুকিং, ট্যাপিং-এর মাধ্যমে ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ চুরি চলছে৷ যার প্রভাব পড়ছে জেলার ১৩টি ব্লক এলাকায়৷ ফলে ক্ষতি হচ্ছে বছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। শতাংশের বিচারে প্রায় ৫৩ শতাংশ। গোটা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে এই জেলাতেই৷
আরও পড়ুন: আবির্ভাবেই ঝড় তুললেন স্মৃতি
আর এই চুরি বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই কারণেই সোমবার বৈঠক ডাকা হয়েছিল৷ বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম লিমিটেডের চিফ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ পাণ্ডে-সহ জেলা প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিক, ব্লক স্তরের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
এদিন বৈঠক শেষে বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, লোকসান কমাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের বোঝানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে বকেয়া বিদ্যুতের বিলের পরিমাণও বিশাল আকার নিয়েছে। সেগুলি আদায় করার জন্য এদিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: গেরুয়া শিবিরে অমর সিং? জল্পনা তুঙ্গে
বর্ধমান পুর এলাকায় লোকসানের বহর ১৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই লোকসানের বহর গ্রামীণ এলাকায় যেখানে থাকার ১১ শতাংশ, সেখানে পূর্ব বর্ধমান জেলায় রয়েছে ৫৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলে যেখানে থাকার কথা ৯ শতাংশ, সেখানে রয়েছে ১১ শতাংশ। এগুলিকে দমন করার জন্য জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সাহায্যও চাওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে।

বিদ্যুৎ দফতরের বর্ধমানের দুই জেলার রিজিওনাল ম্যানেজার দিলীপ কুমার বাছাড় জানিয়েছেন, গতবার এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ। এবারে ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩ শতাংশে। ভয়াবহ অবস্থা জেলার ভাতর ব্লকে। এছাড়াও রয়েছে দাঁইহাট, কেতুগ্রাম, নতুনহাট, কাটোয়া, সমুদ্রগড়, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী, মেমারী, জামালপুর, গুসকরা, রায়না প্রভৃতি ব্লকেও।
আরও পড়ুন: ভরাট পুকুরে নতুন করে খনন শুরু পুরসভার
তিনি জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরে ১৩৬টি এফআইআরও করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে এই লোকসান কমাতে পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল থেকে স্পটবিলিং ও পিকচারাইজেশন প্রথা চালু হওয়ায় মিটারে কারচুপির হার অনেকটাই কমানো গিয়েছে। যেহেতু এখন বিদ্যুত বিল সংগ্রহের কাজ বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়া হয়েছে তাই সেক্ষেত্রেই তাদের কর্মীরা কোনও অসদুপায় নিচ্ছেন কি না সে ব্যাপারে মনিটরিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তিনি জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চুরির বিষয়টি দফতর জানতে পারলেও পুলিশের সহযোগিতা সঠিকভাবে না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা যায় না। এদিনের বৈঠকে এই সমস্যার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গণপিটুনি ইস্যুতে সংসদের বাইরে ধরনা তৃণমূলের
The post বিদ্যুৎ চুরি রুখতে জনসংযোগই হাতিয়ার মমতার প্রশাসনের appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.
from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2JOxQTF
via IFTTT
Comments
Post a Comment