রিভিউ: শুয়োপোকার ডানা মেলার গল্প ‘পিউপা’

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পিউপা থেকে প্রজাপতি হয়ে ওঠার গল্প ‘পিউপা’। বন্ধ জীবনকে স্বাধীনতা দেওয়ার গল্প ‘পিউপা’। এগল্প চারজন মানুষের সমস্যার শক্ত দেওয়াল ভেঙে প্রজাপ্রতি হয়ে ডানা মেলার কাহিনি বলবে। স্বপ্নপূরণের আগে দ্বন্দ্বের দোদুল্যমান অবস্থানের কাহিনি। যেখানে পরিচালক পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতার সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে দিয়েছেন পার্থিব ও জাগতিক সমস্যাকে।

এছবিতে চারি চরিত্র। প্রথমে আসি শুভ্রের (রাহুল) কথায়, গোটা ছবি জুড়ে এই দ্বন্দ্ব তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফেরে সে। কাজ সেরে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সময়ই হঠাৎ বাবার সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়। চিকিত্সক জানিয়ে দেন, বাবার হাতে আয়ু মেরে কেটে ১০ থেকে ১৫ দিন। আটকে পড়ে ছেলে। কিন্তু ১০-১৫ দিন পরেও বাবা বেঁচে থাকেন। আর এই বেঁচে থাকাটাই তখন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়! একদিকে সুন্দর ভবিষ্যতের হাতছানি, অন্যদিকে শিকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতা কোনটা বেছে নেবে সে!

অন্যদিকে বর্ষা(পিয়ালী মুন্সি) প্রেমিকের কাছাকাছি থাকবে বলে বিদেশে রিসার্চের সুযোগ খোঁজে। চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়! তার উপলব্ধি, ওটাই তার নিজস্ব অরবিট!  এদিকে আটকে পড়ে শুভ্র! ছিটকে যাওয়া ইলেকট্রনের মত। তাহলে কী শেষ পর্যন্ত তাঁর যাওয়া হবে আমেরিকায়।

শুভ্রের দিদি মৌ (সুদীপ্তা) চক্রবর্তী। বাবার শরীর খারাপের পর দু’নৌকায় সে ভাসছে। কখনও ছুটছে বাপের বাড়ি, কখনও শ্বশুড় বাড়ি। ফলত উভয়দিকে বেসামাল অবস্থা। সংসার-মেয়ে সামলে সে কীভাবে বাবার সেবা করবে! তাঁর ডাক্তার স্বামীও যে চায় না বাপের বাড়িতে পড়ে থাকুক মৌ। পারিবারিক মূল্যবোধ, কর্তব্য, শিকড়ের টানে সে আসটে-পিসটে আটকে যেতে থাকে।

আর এদের মধ্যে রয়েছেন একজন রজত চট্টোপাধ্যায় (কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়)। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। বর্তমানে ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে কাজ করছেন। আর সময় পেলেই পাহাড়ে চলে যান। এক উন্মুক্ত চিন্তার মানুষ।

আরও পড়ুন:  কী খাচ্ছেন রুক্মিনি? দেখে নিন ‘ফুড লিস্ট’

‘পিউপা’র পর ইন্দ্রাশিসের ক্র্যাফটের প্রতি দখল ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন করার জায়গা প্রায় নেই বললেই চলে। সুদীপ্তার অভিনয় নিয়ে কীই বা বলি! যা-ই বলব কম হয়ে যাবে। তার প্রমাণ করার আর বোধয় কিছু বাকি নেই। ভিন্ন ঘরানার অভিনয়ে চমৎকার লাগে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে। রাহুল যথাযথ। শুধু ইংরেজি উচ্চারণে খানিক মার্কিনি স্বর থকলে মন্দ হত না! পিয়ালি আলাদা ভাবে নজরে পড়বে। প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের খুব একটা করার কিছু ছিল না! তাঁকে গোটা ছবিতে শুয়েই কাটাতে হয়েছে। বিটোফেনের সিম্ফনির ব্যবহার ‘পিউপা’য় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আসলে এমন মানবিক ও পেলব ভাবনায় তৈরি ছবিতে অভিনেতারা প্রত্যেকেই সাফল্যের সমান দাবিদার।

আরও পড়ুন: মৃত্যু দিনেই দক্ষিণেশ্বরে মন্দিরে গব্বর সিং

গত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গোয়েজ ফিল্মস’ নির্বাচিত হয়েছিল ‘পিউপা’। তবে প্রদর্শনের সময়ই বন্ধ হয়ে যায় প্রজেক্টর। হতাশ হন উপস্থিত দর্শক সহ জুরিরা। এমনকি গত ১৯শে জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘পিউপা’। কিন্তু সেন্সরের গেঁড়োয় আটকে যায় ছবির মুক্তি। আসলে এই ছবিতে রয়েছে একটি খুনের দৃশ্য। যা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলন সেন্সর কর্তারা। সাফ জানিয়েছিলেন, পালটাতে হবে খুনের পদ্ধতি। তবে মিলবে ছাত্রপত্র। এখানেই বাঁধে গেঁড়ো। স্বাধীনচেতা পরিচালক সেন্সরের কথা শুনতে নারাজ। সিবিএফসি-র মুম্বই বিভাগে পাঠানো হয় ছবি। সেখানে ছবিটি দেখেন সেন্সরের অন্যতম সদস্য বিদ্যা বালান। কিন্তু এসব এখন বাসি কথা, পর্দায় এখন প্রজাপতি হয়ে উড়ছে পিউপা।

The post রিভিউ: শুয়োপোকার ডানা মেলার গল্প ‘পিউপা’ appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2Ai3k51
via IFTTT

Comments