নিপা ভাইরাস নিয়ে কেরল সরকারের রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

তিরুঅনন্তপুরম: সম্প্রতি নিপা ভাইরাসের প্রকোপে কেরলে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৭ জনের৷ এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেছে কেরল সরকার৷ আর এই পরীক্ষা-নিরিক্ষার রিপোর্টেই উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোট ১৯ জন নিপা ভাইরাস আক্রান্তের মধ্যে ১৭ জনই আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রথম নিপা ভাইরাস আক্রান্তের থেকে৷ নিপা ভাইরাসের প্রথম শিকার ছিল ২৬ বছরের মহম্মদ সাবিথ৷ গত ৫ মে তাঁর মৃত্যু হয়েছে৷

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৯ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছিল৷ বাকি ১৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল মারণ ভাইরাস৷ সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সাবিথ ফ্রুট ব্যাট থেকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল৷ আর তাঁর থেকে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁর বাবা, ছোট ভাই এবং এক অ্যান্টি৷

এ ছাড়া, যেখানে সাবিথকে প্রথম চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল, সেই কোজিকোডের পেরামব্রা তালুক পাতালেরও চারজন তাঁর থেকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে৷ কেরালা হেল্ফ সার্ভিসের স্টেট সার্ভিলিয়েন্স ডিপার্টমেন্টের সূত্রে জানা গিয়েছে, সাবিথকে যখন রেডিওলজি বিভাগে সিটি স্ক্যানের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁর থেকে কোজিকোডে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরও ১০ জন আক্রান্ত হয়৷

সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পেরামব্রা হাসপাতালের একজন রোগী অন্য একজন ব্যক্তির থেকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ মনে করা হচ্ছে, পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান সাবিথ ফ্রুট ব্যাট থেকে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ যদিও, কীভাবে তিনি আক্রান্ত হলেন সেটা এখনও পরিষ্কার নয়৷ মৃত্যুর আট মাস আগে গাল্ফ থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন সাবিথ৷ তীব্র জ্বর এবং গায়ে ব্যাথা নিয়ে গত ২ মে পেরামব্রা হাসপাতালে প্রথমে ‘আউটপেশেন্ট’ হিসাবে চিকিৎসা করাতে আসেন তিনি৷ ৩ মে তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷ মনে করা হচ্ছে, ওইদিন রাতে ডিউটিতে থাকা যে চারজন তাঁর চিকিৎসা করেছিলেন, তাঁরাই সাবিথের থেকে আক্রান্ত হন৷

৪ মে সাবিথের স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হওয়ায় তাকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় সিটি স্ক্যানের জন্য৷ ৫ মে মৃত্যু হয় তাঁর৷ সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিন থাকাকালীন তাঁর থেকে ১০ জন আক্রান্ত হন এই মারণ ভাইরাসে৷ রেকর্ড অনুযায়ী, সাবিথের রক্ত নিপা ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা না করা হলেও, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে৷

সাবিথের ছোট ভাইকেও একই লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷ পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি নিপা পজেটিভ৷ তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান৷ তারপর একে একে মারা যান তাঁদের ৬০ বছর বয়সী বাবা এবং একজন আন্টি৷ মনে করা হয়েছিল, নিজেদের নতুন কেনা সম্পত্তিতে একটি বাদুড় ভরতি কুয়োয় নেমে দুই ভাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল৷ কিন্তু, পরীক্ষা করে দেখা যায় কুয়োয় থাকা বাদুড়গুলি পতঙ্গভুক৷

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গোটা বিষয়টি নজরে আসতেই সতর্কতা অবলম্বন করে প্রায় ৩ হাজার জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়৷ তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও কারণে আক্রান্ত মানুষদের সংস্পর্শে এসেছিলেন৷ প্রত্যেকেরই নিপা টেস্ট করা হয়৷ নিপা ভাইরাসের প্রকোপের বিস্তারিত রিপোর্ট সেন্ট্রাল সার্ভিলিয়েন্স ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়৷

নিপা ভাইরাসের ৪২ দিনের ইনকিউবেশন সময় পার হয়ে গিয়েছে৷ আর যেহেতু, এই ভাইরাস ছড়ানোর জাতীয় প্রভাব রয়েছে তাই রাজ্যের সার্ভিলিয়েন্স ইউনিট এই প্রকোপকে অফিসিয়ালভাবে বন্ধ করার অনুমতি চেয়েছে৷ গত ৩০ জুন কোজিকোডে এবং মালাপ্পুরম জেলাকে নিপা মুক্ত বলে ঘোষণা করেছে সরকার৷ কারণ, গত ৩১ মে-র পর থেকে ওই জায়গাগুলিতে আর কেউ নিপা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি৷

The post নিপা ভাইরাস নিয়ে কেরল সরকারের রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2JuQ3Fy
via IFTTT

Comments