পদ্ম হঠিয়ে জঙ্গলমহলে সবুজ ফুল ফেরাতে হাতিয়ার বনমহোৎসব
সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : হাতছাড়া হওয়া জঙ্গলমহলেও সবুজ ফুল ফোটাতে উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। হাতিয়ার বনমহোৎসব। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রত্যেক বছরই রাজ্য জুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হয় বনমহোৎসব। কিন্তু এই বছরে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামেই হচ্ছে বনমহোৎসবের মূল অনুষ্ঠান। সেটাই যেন উস্কে দিচ্ছে পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফলকে।
পঞ্চায়েতে সবুজ ঝড় উঠলেও জঙ্গলমহলে অপেক্ষাকৃত খারাপ ফল হয়েছে তৃণমূলের। জায়গা নিয়েছে বিজেপি। জনসংযোগ বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোপ পড়েছে বেশ কয়েকজন নেতা, নেত্রীর উপরেও। ভোটের ফলের সেই প্রভাব বনমহোৎসবেও পরিষ্কার। লক্ষ্য সবুজায়ন।
মুখ্যমন্ত্রী পরিবেশ ও জলাভূমি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ১৪ই জুলাই শুরু হচ্ছে ৭ দিন ব্যাপী বনমহোৎসব।
বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ বলেন, “১৪ই জুলাই সারা রাজ্যে ৫০ লক্ষ গাছের চারা পোঁতা হবে। নতুন জেলা ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের সাঁকরাইলে এই উৎসবের সূচনা করবেন পরিবেশমন্ত্রী।” অনুষ্ঠান হবে বাঁকুড়ার ভেদুয়াশোল রেলওয়ে সংলগ্ন প্রাঙ্গণে। অন্যন্য বছরগুলিতে উত্তরবঙ্গেই হয় অরণ্য সপ্তাহের মূল অনুষ্ঠান। সেটাই পরিবর্তন হয়ে এসেছে জঙ্গলমহলে।
এবারের বনমহোৎসবের স্লোগান ‘অরণ্য ও বন্যপ্রাণ, প্রকৃতি মায়ের সবুজ দান’। স্লোগানটি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫০ লক্ষ চারা গাছের মধ্যে ১৫ শতাংশ ফলের গাছ। বিভিন্ন জেলার মাটির চরিত্র বুঝে গাছের চারা লাগানো হবে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার বিধায়কদের ১ হাজার করে গাছের চারা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছেন, “প্রকৃতি ও গাছের রক্ষণাবেক্ষণ যত্ন নেওয়া এলাকার সব মানুষেরও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।টাই স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অফিস, ক্লাব যাঁদের জমি আছে তাদের গাছের চারা দেওয়া হবে।”
বনদফতরে কাউন্টার খোলা হয়েছে। কলকাতার গাছ প্রেমীরা সেখান থেকে মনের মতো গাছ কিনতে পারবেন। গাছের চারার দাম ২ টাকা করে ধার্য করে হয়েছে। এছাড়া বন দফতরের মধু, সিট্রোনেলা ওয়েল বিক্রি করা হবে ১০ শতাংশ ছাড়ে।
যারা গাছের চারা রোপণ করে ভালোভাবে বড় করতে পারবেন এবং যে সব বনকর্মী গাছ বড় করার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দেবেন, তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রথম পুরস্কার ১ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৭৫ হাজার ও তৃতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা।
কলকাতায় নিমগাছ লাগানো হবে বেশী করে। কারণ, বনৌষধি হিসেবে এই গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া ভিত শক্ত করে গাছ লাগানো হবে যাতে ঝড় বৃষ্টিতে চট করে গাছ না পড়ে যায়। বিভিন্ন জেলায় ফলের গাছের পাশাপাশি লাগানো হবে শাল, সেগুন, মেহগনি ও শিশু। সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যকেই সবুজ মলাটে মুড়ে ফেলার পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের।
The post পদ্ম হঠিয়ে জঙ্গলমহলে সবুজ ফুল ফেরাতে হাতিয়ার বনমহোৎসব appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.
from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2uy4LpY
via IFTTT
Comments
Post a Comment