RK NEWS

<strong>কোটা</strong>: স্কুলে অসাবধানে পায়ের চাপে একটি চড়ুই পাখির ডিম ভেঙে ফেলেছিল। কুসংস্কারবশত এই সামান্য কারণে পাঁচ বছরের মেয়েটিকে ১১ দিন ধরে একঘরে করে রাখা হল। এই ক’দিন তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দূর থেকে একটি থালায় সামান্য পাঁউরুটি ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছিল। সেটাই ছিল ছোট্ট মেয়েটির একমাত্র খাবার। বাবা-মা এবং বাড়ির অন্যদের কাছে না পেয়ে মেয়েটি ভয়ে ও অযত্নে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু তাতেও গ্রামের কারও দয়া হয়নি। শেষে শিশু অধিকার রক্ষা বিভাগের প্রধান মনন চতুর্বেদীর নজরে আসে বিষয়টি। তিনি পুলিশে খবর দেন। মেয়েটিকে উদ্ধার করে গ্রামের ১১ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮৪, ৫০৮, ১২০ বি, শিশু অধিকার রক্ষা আইনের ৭৫ ধারা এবং অস্পৃশ্যতা বিরোধী আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনা রাজস্থানের বুন্দি জেলার হরিপুরা গ্রামে। হিন্দোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার লক্ষ্মণ সিংহ জানিয়েছেন, স্থানীয় মানুষের অন্ধবিশ্বাস, চড়ুই পাখির ডিম ভাঙলে সেই সম্প্রদায়ের উপর অশুভ প্রভাব পড়ে এবং ওই গ্রামে বৃষ্টি হয় না। সেই কারণেই মেয়েটিকে প্রথমে তিন দিন এবং পরে আট দিনের জন্য একঘরে করে রাখা হয়। শেষে আর থাকতে না পেরে গতকাল মেয়েটির বাবা তেহসিলদারের কাছে অভিযোগ জানান, ‘শাস্তি’ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে দামী মদ, বিভিন্ন খাবার, গোখাদ্য ও মাছ ধরার চার দাবি করেছেন তাঁদের সম্প্রদায়ের প্রধান। এ কথা জানতে পেরে তেহসিলদার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই গ্রামে গিয়ে মেয়েটির উপর অত্যাচার বন্ধের নির্দেশ দেন। মেয়েটির বাবা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোয় গতকাল রাতে গোটা পরিবারকেই একঘরে করে দেন সম্প্রদায়ের প্রধান। আজ সকালে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মেয়েটিকে দেখতে যান শিশু অধিকার রক্ষা বিভাগের প্রধান। তাঁর নির্দেশেই এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। তিনি এই হতদরিদ্র পরিবারটিকে রান্নার গ্যাসের সংযোগ ও দু’মাসের রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ, খাদ্য সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় আনা এবং শৌচাগার নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চতুর্বেদী।

from https://ift.tt/2Je26qJ
via IFTTT

Comments