RK NEWS
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন পেশ করে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ অনুচ্ছেদে ব্যাভিচারের জন্য পুরুষ ও মহিলা, দুজনকেই সমান দায়ী বলে গণ্য করার যে আবেদন জানানো হয়েছে, কেন্দ্র তার বিরোধিতা করল। কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে বলেছে, ব্যাভিচারকে অপরাধ হিসাবেই দেখা উচিত। ব্যাভিচার সংক্রান্ত আইনকে শিথিল করা হলে বিয়ের পবিত্রতার ওপর প্রভাব পড়বে। ব্যাভিচারকে বৈধতা দেওয়া হলে বিয়ের বন্ধনই ভেঙে যাবে। ৪৯৭ ধারায় বিবাহিত পুরুষের স্ত্রী ছাড়া আরেক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের জন্য শুধু তাকেই সাজা দেওয়ার বিধি রয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই ধারা বাতিল করে বিবাহ-বহির্ভূত যৌনতায় জড়ানো পুরুষ ও মহিলা, দুজনকেই সমান দায়ী করে সাজা দেওয়া হলে বিবাহের পবিত্রতা থাকবে না। বিয়ে নামক ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষা করতেই এই ধারা চালু করা হয়েছিল। যোশেফ সাইন নামে কেরলের জনৈক অনাবাসী ব্যক্তি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ১৯৮ (২) ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন দিয়েছেন। ১৯৮ (২) ধারায় বিয়ের পরিপন্থী অপরাধের বিচার হয়। সাইন দুটি ধারার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বলেছেন, ৪৯৭ ধারা অসাংবিধানিক কেননা তাতে পুরুষের প্রতি বৈষম্য করা হয়, তা সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ২১ ধারাকে লঙ্ঘন করে। তিনি সওয়াল করেন, দুটি নারী, পুরুষের সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক হলে তাঁদের একজনকে তার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যুক্তি নেই। এই ধারা বাতিল করা হোক। ভারতে ব্যাভিচারকে মহিলাদের ক্ষেত্রে অপরাধ হিসাবে দেখা হয় না। অভিযোগ, ব্যাভিচার সংক্রান্ত আইনে পুরুষের প্রতি বৈষম্য করা হয়। গত ৫ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই সংক্রান্ত জনস্বার্থ পিটিশনটি সংবিধান বেঞ্চে পাঠায়। তিন বিচারপতির বেঞ্চ বলেছিল, সমাজ যখন অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে, তখন এই ধারা অত্যন্ত সেকেলে বলে মনে হয়। যদিও ১৯৫৪, ১৯৮৫ ও ১৯৮৮ সালের আগের তিনটি রায়ে আদালত এই ধারা বহাল রেখেছিল। ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাভিচারের সাজা ৫ বছর পর্যন্ত কারাবাস বা জরিমানা বা একসঙ্গে দুটিই। তবে ব্যাভিচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্ত্রীকে মদতদাতা হিসাবে সাজা দেওয়া হবে না।
from https://ift.tt/2upqzUz
via IFTTT
from https://ift.tt/2upqzUz
via IFTTT
Comments
Post a Comment