বিজয় দিবসে কারগিল শহিদদের প্রতি কলকাতা ২৪x৭-এর শ্রদ্ধার্ঘ্য

৭ জুলাই ১৯৯৯, পিক ৭,৮,৪,৫-এ চতুর্দিক থেকে গুলি চলছিল৷ পাহাড়ের চূড়ায় বসে থাকা শত্রুপক্ষ এই পরিস্থিতিকে আরও ইন্ধন দিচ্ছিল৷ তাদের কটাক্ষ: শেরশাহ নাম রাখলেই হয় না৷ সাহস থাকলে মুখোমুখি এসো৷ শিখরে বসে থাকা শত্রুদের আত্মবিশ্বাস এতোটাই প্রবল ছিল যে তারা বলে ওঠে, ‘শেরশাহ, আমাদের মাধুরী দীক্ষিত দিয়ে দাও, আমরা যুদ্ধ না করেই তাহলে চলে যাবো৷’

তারপর? তারপর আর কি, শেরশাহ তার সঙ্গে থাকা অস্ত্র দিয়েই প্রত্যুত্তর দিতে থাকে৷ শত্রুপক্ষের অনেকেই তাতে খতম হয়৷ আর তখন শেরশাহ হেসে বলে, ‘উইথ লভ ফ্রম মাধুরী দীক্ষিত!’

কিন্তু কে ছিলেন এই শেরশাহ?
এই সাহসী ব্যক্তি ছিলেন কারগিল যুদ্ধের পরমবীর চক্র বিজয়ী শহিদ ক্যাপ্টেন বিক্রম ভাতরা৷ তাঁর সাহসিকতার জন্যই তিনি শেরশাহ নামে পরিচিত ছিলেন৷

কারগিল যুদ্ধ, এমন এক যুদ্ধ যার জন্য বহু ভারতীয় সেনার নাম ইতিহাসে অমর হয়ে গিয়েছে৷ ১৮ বছর আগে ২৬ জুলাই, ১৯৯৯ সালে ভারত এই যুদ্ধে বিজয়লাভ করে৷ এই দিনকে বিজয়দিবস হিসেবেও পালন করা হয়ে থাকে৷

কিন্তু এই যুদ্ধের শুরুটা ঠিক কিভাবে হয়েছিল? কিভাবে ভারতকে আঘাত করার জন্য পাকিস্তানের প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছিল? কিভাবে ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের সাহসিকতার ওপর ভর করে শত্রুপক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিল? কোন দেশ, যা আমেরিকার চাপ উপেক্ষা করে ভারতকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল? আর সেই সব পন্থা বা উপায় কি ছিল যা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছিল বায়ুসেনা?

৩মে ১৯৯৯ সালে শ্রীনগর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে কয়েকটি স্থান থেকে অনুপ্রবেশের খবর আসতে থাকে যার মধ্যে কারগিল ছিল অন্যতম৷ পরমাণু অস্ত্রে ভরপুর দুই দেশ একেবারে মুখোমুখি হয়ে যায়৷ এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল৷ ২৬ মে একদিকে শত্রুরা গোলাবর্ষণ করতে থাকে, অন্যদিকে ভাররতীয় সেনাও তার প্রত্যুত্তর দিতে নেমে পড়ে৷ তাদের এই অপারেশনের নাম ছিল- বিজয়৷

চিনের এক মিশাইলের সাহায্যে যখন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি বিমানের ওপর হামলা করে পাক সেনা ঠিক তখনই বায়ুসেনা পাল্টা হামলার জন্য বদ্ধপরিকর হয়৷ সীমার মধ্যে থেকেই কিন্তু প্রতিটি হামলার জবাব দিয়েছিল বায়ুসেনা৷ ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ ২১, মিগ ২৩, মিগ ২৭, শত্রুপক্ষের সাপ্লাই চেনকে ধ্বংস করে দিয়েছিল৷ এই যুদ্ধে ভারতের কাছে সবথেকে চ্যালেঞ্জিং ছিল শত্রুর ঘাঁটি চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা৷

কিন্তু তার জন্য যে উন্নত মানের মিসাইল প্রয়োজন ছিল তা ভারতের কাছে ছিল না সেই সময়৷ এমনই পরিস্থিতিতে আমেরিকার চাপ উপেক্ষা করে এক দেশ ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল৷ ১৯৭১-এর যুদ্ধেও ভারতকে সাহায্য করেছিল এই দেশ৷ সে সময় ইরানের জন্য তৈরি যাবতীয় অস্ত্র ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল এই দেশ৷ এবারও তার অন্যথা হল না৷ এই দেশ হল ইজরায়েল৷ ভারতকে অস্ত্র সাপ্লাই করতে থাকল৷

৪জুলাই, টানা ১১ঘন্টা যুদ্ধের পর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পিক টাইগার হিলে ভারতীয় বায়ুসেনা হাজির হল জাতীয় পতাকা হাতে৷ নওয়াজ শরিফ পিছু হটতে বাধ্য হন৷ ১৪জুলাই ১৯৯৯সাল, সেসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এই বিজয় উৎসবের সাফল্য ঘোষণা করেন৷ কিন্তু এই বিজয়োৎসবের সাফল্য অফিশিয়ালি ঘোষণা করা হয় ২৬জুলাই, ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে৷

এই যুদ্ধে প্রায় ৩,০০০ পাক অনুপ্রবেশকারী খতম হয়৷ শহিদ হন প্রায় ৫২৭ ভারতীয় সেনা৷ সেনা জওয়ানদের সেই আত্মত্যাগ, সেই বিজয়োৎসব, সেই সময়কে স্মরণ করে কলকাতা ২৪x৭-এর পক্ষ থেকে প্রণাম, স্যালুট, জয় হিন্দ৷

The post বিজয় দিবসে কারগিল শহিদদের প্রতি কলকাতা ২৪x৭-এর শ্রদ্ধার্ঘ্য appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2JXJRGa
via IFTTT

Comments