‘ভগৎ সিং-দের বিপথগামী তরুন বলেছিলেন গান্ধীজী,’ নাথুরামের জবানবন্দি ছিল চমকে ভরা
সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : গান্ধীজিকে তিনি সম্মান করতেন। তাঁর ভাবধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন। গান্ধী ছাড়া তিনি কিছু বুঝতেন না। গান্ধী যা বলবেন তাই সঠিক, সেটাই তাঁর জীবনের ব্রত হয়ে উঠেছিল। অথচ সেই গান্ধীকেই তিনি হত্যা করলেন। পর পর তিন তিনটি ফায়ার করেছিলেন পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে। এই গান্ধী ভক্ত এবং আততায়ী অবশ্যই নাথুরাম গডসে। তাঁর জবানবন্দিতে কি বলেছিলেন নাথুরাম।
তথ্য মিলছে গান্ধীজি হত্যার বিচারপতি জিডি খোসলার ‘মার্ডার অফ মহাত্মা’-বই থেকে। ১৯৬৫ সালে সেই বই প্রকাশ হয়েছিল। জায়কো পাবলিশিং হাউস এই বই প্রকাশ করেছিল। বইয়ের তথ্য অনুযায়ী , বহু তথ্যের মাঝে যে ১০টি মারাত্মক জবানবন্দি গডসে দিয়েছিলেন তা ছিল
১) আমি বহু মহাপুরুষের জীবনী পড়েছি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কাউকে নিয়ে পড়াশোনা করে থাকি তিনি গান্ধীজী। আমি ওনার ভাব ধারায় প্রভাবিত হয়েছিলাম।
এরপরের যে সব কথা বলেছিলেন নাথুরাম তা ভয়ঙ্কর। তিনি বলেছিলেন,
২) আমি জানি আমি কি করেছি। আমি গান্ধীজীর মত নেতাকে মেরে ফেলেছি। আমি আমার জীবন নষ্ট করেছি। আগামীদিনে ভারতবাসীর কাছে আমি জাতীর জনকের হত্যাকারী রূপে চিহ্নিত হব। কিন্তু এতে আমার কোনও দুঃখ নেই।
তাঁর যুক্তি অনুযায়ী
৩) গান্ধী অহিংসার কথা অতিরিক্ত ভাবতে গিয়ে হিংসা এবং অহিংসার মধ্যে পার্থক্য ভুলে গিয়েছিলেন।
৪) দেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা বজার রাখার জন্য হিংসার আশ্রয় নিতে হলে হবে। এতে ভুলটা কোথায়? মহারানা প্রতাপ সিং, ছত্রপতি শিবাজী, গুরুগোবিন্দ সিং এঁরাও তো হিংসার পথেই চলেছিলেন।
৫) ১৯৩৯ সালে হরিপুরা অধিবেশনে নেতাজী সভাপতি নির্বাচিত হন কিন্তু গান্ধী পরাজিত পট্টভি সীতারামাইয়ার পক্ষ অবলম্বন করে নেতাজির বিরোধিতা করেছিলেন। নেতাজিকে দল ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। এটা কি কোন হিংসার পথ নয়?
৬) গান্ধীজি সেই মানুষ যিনি সশস্ত্র দেশীয় বিপ্লবীদের বিপথে যাওয়া তরুন বলতেন। কিন্তু হাজার হাজার ভারতবাসীর প্রান নিয়ে নেওয়া ইংরেজদের বিশ্বযুদ্ধের মত সশস্ত্র ও হিংস্রতায় পরিপূর্ণ প্রানঘাতী যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্য দিয়ে সাহায্য করার সময় সেখানে হিংসাকে আন্তরিকভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
৬) ভগৎ সিং, রাজগুরু এবং শুকদেবের ফাঁসি রদ করার জন্য ভারতবাসী গান্ধীজীর শরনাপন্ন হয়েছিল। এমন আবেদনের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। ভগৎ সিংদের বিপথগামী তরুন আখ্যা দিয়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশকে সমর্থন করেছিলেন। এটা কি হিংসা নয়?
৭) জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পরে ক্ষিপ্ত ভারতীয়রা চেয়েছিল ডায়ারের বিচার হোক কিন্তু গান্ধী সেই সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেন।
৮) উলটে উধম সিং ডায়ারকে হত্যা করলে গান্ধী প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করে উধম সিংকে বিপথগামী তরুন আখ্যা দিয়েছিলেন। এ কেমন বিচার ?
৯) গান্ধী ভারতের জাতির জনক হতেই পারেন না কারন গান্ধী অখণ্ড ভারত গড়েননি। ওনাকে পাকিস্তানের জনক বলাই ভালো কারন গান্ধীর জন্যই ভারতের একটা অংশ কেটে নিয়ে অন্য একটা দেশ পাকিস্তান বানিয়ে দেওয়া হল।
১০) আমার কাছে সবার আগে দেশ, তার আগে কেউ না। গান্ধীর দ্বারা দেশের কোনও উপকার আগেও হয়নি পরেও হবে না। আমার মনে হয় না গান্ধীকে মেরে আমি কোনও অপরাধ করেছি।
বিচারপতি তাঁর বইতে লিখেছেন, নাথুরাম এবং নারায়ন আপ্তেকে যখন ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে এসে গলায় দড়ি পরিয়ে দেওয়া হয় তখন নাথুরাম নাগাড়ে বলতে থাকেন ‘অখন্ড ভারত’ কথাটি। আপ্তে তাঁর কথায় মিলিয়ে বলছিলেন , ‘অমর রহে’। কাঠ থেকে ঝুলে যাওয়ার পরেই তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয় আপ্তের। কিন্তু নাথুরাম ওই অবস্থায় প্রায় ১৫ মিনিট ঝুলেছিলেন। তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস চলছিল। যা দেখে যথেষ্ট অবাক হয়ে গিয়েছিলেন জিডি খোসলা।
The post ‘ভগৎ সিং-দের বিপথগামী তরুন বলেছিলেন গান্ধীজী,’ নাথুরামের জবানবন্দি ছিল চমকে ভরা appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2TnGLRl
via IFTTT
Comments
Post a Comment