সরকারি বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে হেনস্থা কৃষকদের, বাড়ছে ক্ষোভ

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সরকার নির্ধারিত কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে ‘হেনস্থা’র শিকার হতে হচ্ছে কৃষকদের। এমনটাই অভিযোগ বাঁকুড়ার কোতুলপুর কৃষকদের। সরকারের কাছে যেখানে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা, সেখানেই অযথা হয়রানির পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ঐ এলাকার কৃষকদের একাংশের।

রাজ্যের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বাঁকুড়াতেও সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কাজ শুরু হয়েছে। সেভাবেই কোতুলপুর কৃষক বাজারে ব্লক এলাকার ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধান কেনার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে প্রতিনিয়ত চরম সমস্যার মধ্যে পড়ছেন, এমন অভিযোগের পাশাপাশি ক্যুইন্ট্যাল পিছু সাত-আট কেজি ধান বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে কৃষকদের দাবি। এমনকি ধান কেনা ও চেক দেওয়ার ক্ষেত্রেও টালবাহানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত সমস্ত ধান কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছেনা, উলটে ফড়েদের কাছ থেকে ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কৃষক বাজারে ধান বিক্রি হওয়ার একটা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। কোতুলপুরের এই কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকদের অভিযোগ আরো মারাত্মক। তাদের দাবি, সাধারণ কৃষকরা এখানে ধান বিক্রি করতে এলে তাদের ধান কেনার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও টালবাহনা করা হচ্ছে।

কিন্তু ‘টাকার বিনিময়ে’ কেউ কেউ এক দিনেই ধান বিক্রি করে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। এই চক্রে কৃষক বাজারে ধান কেনার যুক্ত সরকারী কর্মীদের একটি অসাধু চক্র কাজ করছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। যদিও কৃষক বাজারের ধান কেনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তার দাবি, ভিত্তিহীন অভিযোগ। এই ধরণের কোন ব্যবস্থা নেই বলেই তার দাবি।

কোতুলপুর কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা রামরঞ্জন পাল বলেন, ক্যুইন্টাল প্রতি ধানে সাত থেকে আট কেজি বাদ দেওয়া হচ্ছে। একদম ঝকঝকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ধান এখানে নিয়ে এলেও ‘বাদে’র হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কোন কৃষকই। ধান কেনা ও চেক দেওয়ার ক্ষেত্রেও টালবাহনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, ধান বিক্রির দিন নির্ধারণ করার সময় তারিখ নির্ধারণেও কারচুপি হচ্ছে। ‘বাইপাসে’ যোগাযোগ করতে পারলে আগে ভাগেই ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন কেউ কেউ বলে তাদের অভিযোগ।

এই অবস্থায় সময়ে ধান বিক্রি করতে না পারা ও টাকা না পেলে সমস্যায় পড়ছেন তারা। চলতি আলু চাষে প্রচুর খরচ হয়েছে। এই অবস্থায় দৈনন্দিন সংসার চালানোই সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে বলে তারা জানান। অন্য এক কৃষক ভোলানাথ পাল বলেন, ক’দিন ধরেই আসছি আর ঘুরে যাচ্ছি। আমার ধান কবে বিক্রি হবে জানিনা। সামনে মেয়ের বিয়ে। এই অবস্থায় ধান বিক্রি না হলে কি অবস্থা হবে ভেবে পাচ্ছেননা বলে তিনি জানান।

যদিও কৃষকদের এই অভিযোগ মানতে নারাজ কোতুলপুর কৃষক বাজারে ধান কেনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক অর্ধেন্দু বিশ্বাস। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ধান বিক্রির ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কৃষকরা চেক পেয়ে যাচ্ছেন। ধান ‘বাদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন কোন নিয়ম নেই। রাইস মিলের লোক জন ও আমরা পরীক্ষা করে যেমন ধান তেমন বাদ দেওয়া হচ্ছে। ধান বিক্রির তারিখ নির্দ্ধারণে ‘বাইপাসে টাকা নেওয়া’র অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি তা খারিজ করে দেন। এই আধিকারিক ঐ সমস্ত অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলেই উড়িয়ে দেন।

The post সরকারি বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে হেনস্থা কৃষকদের, বাড়ছে ক্ষোভ appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2SfO3KH
via IFTTT

Comments