দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের তাড়িয়ে বঙ্গ বিজেপিতে ‘স্বচ্ছ’ অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: স্বচ্ছ ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গড়ে তুলতে রাজ্যজুড়ে নেতৃত্বস্তরে বড়সড় কাটছাঁট করতে চলেছে অমিত-মোদী অ্যান্ড কোম্পানি৷ আসন্ন লোকসভায় বাংলা দখলকে পাখির চোখ করেই বেশ বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই কারণে এবার বঙ্গ-বিজেপির মধ্যেই শুরু হয়েছে স্বচ্ছতার অভিযান। দিল্লি টু বাংলা, স্পষ্ট বার্তা, দুর্নীতিতে জড়িত কোনও ব্যক্তিদের রীর থেকে গেরুয়া নামাবলি প্রয়োজনে টেনে খুলে নেওয়া হবে৷ আর এই সোজাসাপটা হুঁশিয়ারি বঙ্গ বিজেপিকে জানিয়ে দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির৷

স্বচ্ছ ভারত গড়তে হলে যে নিজের দলকে আগে স্বচ্ছ করতে হবে তা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। একই সঙ্গে শাসক ক্ষমতা দখলে রাখতে হলেও থাকতে হবে দুর্নীতি থেকে দূরে। সেই কারণেই দলেই স্বচ্ছতার অভিযান শুরু করেছে পদ্ম শিবির।

আরও পড়ুন- বিজেপিতে যোগ দিলেন লাঞ্ছিত সেই তৃণমূল নেত্রী

বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম বাংলায়। কিন্তু, ওই রাজ্যে এখনও প্রস্ফুটিত হয়নি পদ্ম। প্রধান বিরোধী হিসেবে উঠে এলেও রাজ্যের ক্ষমতা দখল এখনও অনেক যোজন দূরের ব্যাপার। এই অবস্থায় বংগ বিজেপিতে স্বচ্ছতা আনতে জোর দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২২টি আসন দখলের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন দলের সভাপতি অমিত শাহ। সেই দাবি যে নিছকই কথার কথা নয় তা জানিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বা মোদীর যথেষ্ট সমর্থ রয়েছে, কিন্তু রাজ্যস্তরের নেতাদের গাফিলতির কারণে বাংলার মাটিতে বিকশিত হতে পারছে না পদ্ম। যার অন্যতম একটি বড় কারণ হচ্ছে দলীয় নেতাদের নানাবিধ দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়া।

সম্প্রতি এলপিজি গ্যাস কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রণজিৎ সরকার নামে এক রাজ্য কমিটির সদস্যকে। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারী প্রকল্পের আওতায় বহু মানুষকে এলপিজি ডিলারশিপ পাইয়ে দেবেন বলে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ওই বিজেপি নেতা৷ এছাড়াও আরও অনেক নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে। তালিকায় নেতাদের যৌন কেচ্ছাও রয়েছে।

আরও পড়ুন- ‘সহবাস’ মামলায় ধৃত সংঘ প্রচারক অমলেন্দুর বিচার আলিপুর আদালতে

এই ধরনের নেতাদের থেকে দূরে থাকতে চাইছে দল। সেই কারণেই এই স্বচ্ছতার অভিযান বলে খবর। বিপদের আঁচ করতে পেরেই বঙ্গ বিজেপির অনেক নেতা দিল্লিতে পারি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। পদ এবং পিঠ দুইই বাঁচাতে শুরু কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নাকি শুরু হয়েছে দরবার। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তিকে দলে রাখা হবে না। দলে থাকতে হলে নিজেকে আগে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগেই নেতাদের দুর্নীতি প্রকাশ্যে চলে আসার কারণে বাড়ছে না সংগঠন। বছর সাতেক আগেই বাম বিমুখ হয়েছে বাঙালি। তৃণমূল সরকারের প্রতিও জন্মেছে বিতৃষ্ণা। তবুও সাধারণ মানুষ ভরসা রাখতে করতে পারছে না বিজেপির উপরে। এই অবস্থায় দলের শুদ্ধিকরণ আবশ্যক ছিল এবং তা শুরু হয়েছে।

জাতীয় স্তরের এক বিজেপি নেতা সমগ্র বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথায়, “সিপিএম-র জঞ্জালগুলো তৃণমূলে গিয়েছিল। পরে সুযোগ বুঝে বিজেপিতে নাম লেখায়। এই সকল লোকেদের জন্যেই দুর্নীতির সঙ্গে বিজেপির নাম জড়িয়ে যাচ্ছে।” এই সকল জঞ্জাল সাফ করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্বচ্ছ বঙ্গ বিজেপি আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে ২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনের আগেই বাংলায় স্বচ্ছ রাজ্যকমিটি তৈরি করা হবে।

The post দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের তাড়িয়ে বঙ্গ বিজেপিতে ‘স্বচ্ছ’ অভিযান appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2MYcmoK
via IFTTT

Comments