সরকারি নির্দেশিকা উড়িয়ে ফের রমরমা বালি পাচারের
স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিমলাপাল শিলাবতী নদী ঘাট থেকে অবাধে পাচার হচ্ছে বালি৷ গোটা ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের মদতেই বারবার এই ঘটনা ঘটছে৷
অবৈধ বালি পাচার রুখতে অভিযান চালিয়ে ছিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন৷চলতি বছরের ১৮ জুন প্রশাসনের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। ওই নির্দেশিকায় শিলাবতী নদী থেকে বালি তোলা নিষিদ্ধ করা হয়।এরপর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল বালি পাচার৷ কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হল না৷ ফের সিমলাপালে পাচারের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতার প্রমান ধরা পড়েছে আমাদের ক্যামেরাতেও। প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিমলাপালের শিলাবতী নদী থেকে রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টরে করে পাচার হচ্ছে বালি।
জনৈক ট্রাক্টর চালক শিবলাল মাণ্ডি স্পষ্টতই স্বীকার করেন, ‘‘রাত দশটা থেকে বালি পাচার শুরু হয়৷ বন্ধ হয় দু’টো নাগাদ।’’ প্রশাসনের তরফে কেউ এই কাজে বাধা দেয়নি? তাকে এই প্রশ্ন করাতে ট্রাক্টর চালকের সটান জবাব ‘‘বিষয়টা আমাদের মালিক শুভেন্দু দেখে’’।
আরও পড়ুন:বড়লোক হতে ২৪আঙুলের ছেলেকে বলি দিতে চায় পরিজনেরা
বাঁকুড়ার বিভিন্ন নদ-নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দামোদর, দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী, শিলাবতী ও গন্ধেশ্বরীর বুক থেকে লাগাতার বালি চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ। এমন বহু বালিখাদান থেকে প্রতিদিন বালি মাফিয়ারা বালি তুলে নিয়ে যায় যেগুলি থেকে বালি তোলা সরকার নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।
ধরা পড়লে বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হতে পারে বলে বারবার সতর্ক করেছে সেচ দফতর, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর। কিন্তু এলাকার লোকজনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সেসব কথা কানে তোলে না বালির চোরা কারবারিরা। উল্টে তাদের হুমকি, জেলা প্রশাসনের একটা অংশ তাদের হাতের মুঠোয়। প্রতি মাসে বিরাট অঙ্কের টাকা সেইসব অসাধুদের হাতে তুলে দেয় তারা। সুতরাং যেভাবে খুশি বালি পাচার তারা করতেই পারে। কেউ বাধা দেবে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমিসংস্কার দফতর বালি চুরির বিষয়টি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা। আরও অভিযোগ, কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিক অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা বলেন, সরকারি কর্মীদের একাংশের জন্য গোটা দফতরের বদনাম হচ্ছে। সঙ্গে নিয়মিত ক্ষতি হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার রাজস্বের।
পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে একই হারে। কয়েকমাস আগে গ্রামবাসীরাই বালি বোঝাই ট্রাক্টর পাকড়াও করেন৷ সেইসময় সিমলাপালের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেছিলেন, ”খোঁজ নিচ্ছি বিষয়টি কী হয়েছে। অবৈধ বালি হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ যে কিছুই হয়নি তা এদিনের ঘটনায় ফের প্রমাণিত৷
The post সরকারি নির্দেশিকা উড়িয়ে ফের রমরমা বালি পাচারের appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.
from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2PwvkV7
via IFTTT
Comments
Post a Comment