RK NEWS

নয়াদিল্লি: দুজন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমলিঙ্গ যৌন সম্পর্ক অপরাধ নয়। প্রত্যেকের নিজের চাহিদা মত বাঁচার অধিকার রয়েছে। সংবিধানের ৩৭৭ ধারা প্রসঙ্গে এই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র সহ ৫ বিচারপতির বেঞ্চ সমকামী যৌন সম্পর্ককে অপরাধমূলক আখ্যা দেওয়া ৩৭৭ ধারাকে এভাবেই খণ্ডত খারিজ করে দিল। সংবিধানের ৩৭৭ ধারা বলছে, প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ যদি নারী, পুরুষ বা জন্তুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে, না হলে জেল হবে অন্তত ১০ বছর, জরিমানাও দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ১৫৮ বছরের পুরনো এই ৩৭৭ ধারা সমকামী মানুষদের উত্যক্ত করার অস্ত্র ছাড়া কিছু নয়, এটি সংবিধান স্বীকৃত প্রত্যেক নাগরিকের সমানাধিকার খণ্ডন করছে। তবে শিশু ও জন্তুজানোয়ারের সঙ্গে যে কোনও রকম যৌন সম্পর্ক বেআইনি বলে ঘোষণা করা অংশটি বহাল রেখেছে তারা। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করার অধিকার না পাওয়া মৃত্যুর সামিল। যৌন প্রবণতা প্রাকৃতিক ব্যাপার, এর ভিত্তিতে বৈষম্য সম্ভব নয়। সসম্মানে ব্যক্তির বাঁচার অধিকার সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে, আদালত অবশ্যই তা রক্ষা করবে। সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন জরুরি। সংবিধানে এ কারণেই পরিবর্তন প্রয়োজন যাতে সমাজে বদল আসতে পারে। নৈতিকতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতে প্রভাবিত হয় কিন্তু সমাজের একটি সংখ্যালঘু অংশকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে বাঁচার জন্য বাধ্য করা যায় না। যতক্ষণ গোপনীয়তা রক্ষা করে সমলিঙ্গ যৌন সম্পর্ক হচ্ছে, ততক্ষণ তা কোনওভাবেই সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। ৩৭৭ ধারার এই অংশটি অযৌক্তিক, অসমর্থনীয় ও খামখেয়ালি আখ্যা দিয়েছে তারা। এই বিষয়টি প্রথম আদালতে তোলে নাজ ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সমকামী যৌন সম্পর্ককে অপরাধের তালিকা থেকে বার করার আবেদন করে ২০০১ সালে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট রায় দেয়, সমকামী যৌন সম্পর্ক অপরাধ নয়, দণ্ডবিধির ওই অংশটি বেআইনি। কিন্তু ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই রায় খারিজ করে দেয়, এমনকী বাতিল করা হয় পুনর্বিবেচনার আবেদনও। অ্যাপোস্টলিক অ্যালায়েন্স অফ চার্চেস, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, উৎকল ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, ক্রান্তিকারী মনুবাদী মোর্চা প্রমুখ সমকামকে অপরাধ আখ্যা দেওয়ার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।  

from https://ift.tt/2Njt8mt
via IFTTT

Comments