অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো…

স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: তমসা কাটাচ্ছেন তাঁরা৷ দীপাবলীর রাত রোশনাই হবে তাঁদেরই হাত ধরে৷ অথচ তাঁদের নিজেদের জীবনে আলো নেই৷ তাঁরা দৃষ্টিহীন৷ তবে সেই প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাঁদের জীবনে৷ কারণ তাঁরাই এই দীপাবলীতে আলোর উৎস হয়ে উঠেছে৷ তাঁরা নিজেরাই তৈরি করছেন ‘আলো’৷ এই বছর দীপাবলীর সন্ধ্যায় জেলাকে আলোকময় করে তুলবে হলদিয়ার চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রমের দৃষ্টিহীন আবাসিকরা৷

এই আবাসিকে মোট ১১ জন দৃষ্টিহীন ছাত্র থাকেন৷ পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়৷ তাই পরিবারকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন তাঁরা৷ আর এদের স্বনির্ভর করতে এগিয়ে এসেছে হলদিয়ার চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রমের পাঁচ জন৷ তারাই এদের মোমবাতি তৈরি করা শিখিয়েছে৷ এই দৃষ্টিহীন ছাত্রদের তৈরি মোমবাতি তাঁরাই জেলার বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করে দিয়েছে৷ বর্তমানে এই ১১ জন দৃষ্টিহীন ছাত্রের তৈরি মোমবাতি জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বাজারে সাড়া ফেলেছে৷ চাহিদা থাকলেও তা পূরন করা সম্ভব হচ্ছেনা৷

 

এই দৃষ্টিহীন পড়ুয়াদের মোমবাতি তৈরি করার যাত্রা শুরু হয় জুলাই মাস থেকে৷ এই বছর তাঁরা ১২ লক্ষ মোমবাতি তৈরি করেছেন৷ তাদের তৈরি মোমবাতি পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, কলকাতা ও দুই ২৪ পরগণার বাজারে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন ধরণের মোমবাতি তারা তৈরি করেন৷ সাদা মোমবাতির পাশাপাশি রঙিন মোমবাতিও তৈরি করেছেন তারা৷ তাদের কাছে পাওয়া যাবে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত দামের মোমবাতি৷ এই মোমবাতিগুলি খুচরো বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও রফতানি হয়ে থাকে৷

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের কার্তিক সানকি ও উত্তর ২৪ পরগণার রক্তিম মন্ডল জানান, ‘আমরা অন্ধ। তাই আলো কি জানি না। আমাদের তৈরি মোমবাতি আলো দেয় এটা আমাদের কাছে আনন্দের বিষয়। তখন সেই আলোয় আনন্দ করে আমার ভাই কিংবা বোনেরা৷ তাই আমরা ভীষন খুশি। সাংসারিক কষ্ট দূর করার জন্য পরিবারের হাতে কিছু অর্থ তুলে দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিষ্ঠানে অন্যান্যদের চেষ্টায় মোমবাতি তৈরি করে চলেছি। এতে আমাদের খুব একটা কষ্ট হয় না। হলেও আমাদের তৈরি মোমবাতি যখন প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছায় সেই কথা শুনে সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।’

প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক প্রভাস মাইতি জানান, প্রথম প্রথম দৃষ্টিহীন আবাসিকদের প্রশিক্ষন দিতে একটু সমস্যা হত। কিন্তু এদের একবার দেখিয়ে দিলেই সহজেই তা বুঝে যায়। গত কয়েক মাস ধরে মোমবাতি তৈরি করে আজ ওদের কোনও সমস্যা হয় না। মোমবাতি বাজারে বিক্রি করে যে অর্থ লাভ হয়ে থাকে৷ তা সকলের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক স্বামী বিশ্বনাথানন্দ মহারাজ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছেলে মেয়েরা এসে থাকেন। তাদের স্বনির্ভর করার জন্য তাদের বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করি। তার মধ্যে মোমবাতি তৈরি হল একটি কাজ। প্রথম প্রথম বাজারে সেইভাবে চাহিদা ছিল না। এখন জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে দৃষ্টিহীনদের তৈরি এই মোমবাতি। আবাসিকদের এই কাজকে উৎসাহিত করার জন্য জেলা প্রশাসন সহায়তার সুযোগ করে দিয়েছে। এই ধরনের হাতের কাজ শিখে আবাসিকরা যাতে স্বনির্ভর হয়ে সুন্দরভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারে সেদিকে আমাদের নজর থাকবে।’

The post অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো… appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2JqgU7g
via IFTTT

Comments