দেশহীন রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্গাপূজার আনন্দ
প্রসেনজিৎ চৌধুরী: শব্দগুলোর সারিবদ্ধ আকার এমন হতে পারে- তোমার দুর্গা প্যান্ডেলে মাতোয়ারা/ আমার দুর্গা রোহিঙ্গা শিবিরে উৎসবে আনন্দহারা…
নাক মুখ কুঁচকে যদি যায়, তবে যাক৷ প্রাণ বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ গৃহহীন রোহিঙ্গা শরণার্থী মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন৷ সংখ্যাটা কত হবে ? কম করেও ১০ লক্ষ ৷ তাদের মধ্যে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ রয়েছেন কিছু সংখ্যক হিন্দু রোহিঙ্গা শরণার্থী৷ তবুও যখন বাংলার বাতাসে উৎসবের আমেজ তখন তার ছোঁয়া পায় বৈকি বিশ্বের সর্ব বৃহত্তম উদ্বাস্তু-দেশহীন মানুষের আশ্রয়স্থল৷ তাই রোহিঙ্গা শিবিরেও আরাধনা করা হয়েছে দেবী দুর্গা৷ আড়ম্বর কম৷ কিন্তু তার খবর ছড়িয়ে পড়ছে সীমান্ত পেরিয়ে দুনিয়ার সর্বত্র৷
ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গোৎসব উপলক্ষে রোহিঙ্গা দুর্গাপূজার জন্য পাঠিয়েছেন উপহার৷ সেই উপহারে আপ্লুত শিবিরের শরণার্থীরা৷ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর, কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত হিন্দু রোহিঙ্গারাও উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করছেন। স্থানীয় প্রশাসন মণ্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছে। প্রায় ৪৫০ জন রোহিঙ্গা উৎসব পালন করছেন৷ এতে অংশ নিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা৷
বঙ্গোপসাগর তীরে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় তথা বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান কক্সবাজার সাগর সৈকত৷ এখানকার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরেও লেগেছে দুর্গাপূজার ধুম৷ জটিল পরিস্থিতি৷ কে কোথায় থাকবে তারই ঠিক নেই৷ ছড়াচ্ছে কঠিনতর রোগ৷ তবুও তার মাঝে সুস্থভাবে বাঁচার জন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার৷

কক্সবাজারে তিনশোর বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে৷ তবে সব থেকে নজর কাড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আয়োজিত মণ্ডপ৷ স্থানীয় কুতুপালং সরকারি বন বিভাগের জমিতে অবস্থিত হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মণ্ডপ সাজানো হয়েছে৷ উৎসব উপলক্ষে দেয়া হয়েছে চাল, নতুন জামাসহ নানা উপহার সামগ্রী। এছাড়া নিরাপদে নিজেদের মতো উৎসব পালন করতে পারে সেই লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এমন কিছু আহামরি তার দেখনদারি নয়৷ কিন্তু এতেই সবার থেকে আলাদা৷ দেশ অর্থাৎ মায়ানমার ছেড়ে আসা এই রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সাধ্যমতো চেষ্টা দুর্গা আরাধনা করছেন৷ কুতুপালং শিবিরের রোহিঙ্গাদের দুর্গাপূজা খতিয়ে দেখেছেন কক্সবাজারের জেলাশাসক কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন৷ পরে তারা জানান, শরণার্থীদের তাদের দেশ অর্থাৎ মায়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়ার পূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার৷
বাংলাদেশ ও মায়ানমার প্রতিবেশী রাষ্ট্র৷ সীমান্তের একদিকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অন্যদিকে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ৷ গত বছর সেই রাখাইন প্রদেশে বর্মী সেনার উপর রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা চালায়৷ তারপরেই সেনা অভিযান শুরু হয় রাখাইনে৷ এরপরেই শুরু হয় সেখানে গণধর্ষণ ও গণহত্যা৷ প্রাণ বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেন বাংলাদেশে৷ বিশ্বজুড়ে এই সেনা অভিযানের সমালোচনা হয়৷ রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয় প্রতিবাদ৷
পরিস্থিতি নিয়ে মায়ানমারের সর্বচ্চো নেত্রী তথা সেদেশের সরকারের সর্বময় প্রধান আউং সান সু কি-র হস্তক্ষেপ দাবি করে আন্তর্জাতিক মহল৷ তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ শান্তির জন্য নোবেল পাওয়া সু কি কী করে গণহত্যা দেখেও চুপ করে আছেন এই নিয়ে বিতর্ক চলছেই৷ এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষায় চেষ্টা চালানো হবে৷ তবে কূটনৈতিক উপায়ে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে৷ এই দেশহীন ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা এখন ফিরতেও চান না মায়ানমারে৷ তাঁরা জানিয়েছেন আতঙ্ক তাড়া করছে, ফিরলেই মেরে ফেলা হবে৷ এসবের মাঝেই উৎসব এসেছে৷ রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্গাকে বরণ করেছেন দেশহীনরা৷
The post দেশহীন রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্গাপূজার আনন্দ appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2QXIAmE
via IFTTT
Comments
Post a Comment