সাঁতরাগাছি দুর্ঘটনা: রাজ্যের দুই প্রান্তের দুই পরিবারে কান্নার রোল

স্টাফ রিপোর্টার, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুর: সাঁতরাগাছি রেল স্টেশনে পদপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় দুজনের৷ এর মধ্যে একজন পরিযায়ী শ্রমিক৷ মৃতের নাম তাসের সর্দার (৬০)। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার নশিপুর সর্দার পাড়া গ্রামে। তিনি কেরল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

তাঁর ছেলে সামিদুল সর্দারের অপারেশন করতে গিয়ে পরিবার দেনায় জড়িয়ে পড়ে। সেই দেনা পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে তিনি দুমাস আগে ভিন রাজ্য কেরলে কাজে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বাড়ি ফেরার পথে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা৷ ঘটনায় এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার রাইস গ্রামের ৩৫ বছরের কমলাকান্ত সিংয়ের৷ কমলাকান্ত বাবু সাঁতরাগাছিতে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷


কমলাকান্ত সিং রং-এর মিস্ত্রী ছিলেন৷ তিনি কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন৷ পরিবারের সাথে শেষ যোগাযোগ হয়েছিল সেদিনই বিকেলে৷ তাঁর স্ত্রী মিতা সিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন তিনি৷

তখনই তিনি জানান, তিনি বাড়ি ফিরছেন বাসে করে৷ সাঁতরাগাছিতে নেমে ট্রেন ধরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর৷ সেখান থেকে ট্রেনে করেই কোলাঘাটে ফিরে যেতেন তিনি৷ এরপর রাত ৮ টা নাগাদ মেয়ে পৌলমী ফোন করে কোনও আর খবর পাননি।পরে একব্যক্তি ফোন করে বলেন যে কমলাকান্ত বাবু নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷ হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে তাঁকে৷ বলা হয় সাঁতরাগাছিতে ওভারব্রীজ থেকে পড়ে গিয়েছেন। এরপরেই পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়৷

স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। দৈনিক ৪০০ টাকার মজুরি পেতেন তিনি৷ পরিবারের আশঙ্কা, একমাত্র উপার্জনকারী মারা যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়বেন তাঁরা৷ তবে স্ত্রীর দাবী রেল বা রাজ্য সরকার যদি চাকরী দিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সংসার ও মেয়ের পড়াশোনা চালাতে পারবেন কোনও রকমে৷ আপাতত শোকের আবহে এই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের৷

The post সাঁতরাগাছি দুর্ঘটনা: রাজ্যের দুই প্রান্তের দুই পরিবারে কান্নার রোল appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2PQyZh7
via IFTTT

Comments