জাতীয় নির্বাচনে কট্টরপন্থী জামাত ইসলামিকে বাইরে রাখার আইন নেই: ইসি

ঢাকা:   আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কট্টরপন্থী দল জামাত ইসলামি কি অংশ নিতে পারবে ? এমনই প্রশ্নে ধোঁয়াশা তৈরি হল৷ কারণ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোনও আইন নেই। মঙ্গলবার জামাত ইসলামি, হেফাজতে ইসলামের মতো উগ্র ধর্মীয় সংগঠনগুলি বা কোনও যুদ্ধ অপরাধীর পরিবারের কেউ ব্যক্তিগতভাবে যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তার জন্য দাবি জানায় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীরের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বলা হয়, জামাতের অনুসারী বা নেতাকর্মী কিংবা যুদ্ধ অপরাধীদের উত্তরাধিকারীরা যেন কোনোভাবেই নির্বাচন করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়৷ সিইসি এ বিষয়ে বলেছেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন বাংলাদেশ নেই।

বাংলাদেশ জামাত ইসলামির নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বাতিল নিয়ে আগেই আদালতের রায়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জামাতকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে আদালত। তাই জামায়াতের কোনও সদস্য কোনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে এই দলটির সঙ্গে জোট করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে সে দলও নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আদালতের এই ব্যাখ্যার পর নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে।

এক নজরে বাংলাদেশের জামাত ইসলামি:

.১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল জামাত ইসলামি৷ সংগঠনটির নেতৃত্ব পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাক সেনা দ্বারা পরিচালিত বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে যায়৷ জামাতের নেতৃত্বে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের নির্বিচারে খুন করা হয়৷

.বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর নতুন সরকার জামাতকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং দলের নেতারা পাকিস্তানে নির্বাসনে চলে যায়।

.১৯৭৫ সালে প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুন করা হয়৷ এরপর ১৯৭৭ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে জামাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন৷

.১৯৭৯ সালের খাতায় কলমে বাংলাদেশ জামাত ইসলামি প্রতিষ্ঠিত হয়।

.১৯৮০-এর দশকে জামাত ইসলামি গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য বহুদলীয় জোটে যোগদান করে। এই সময় দলটি আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিভিন্ন দলগুলোর সঙ্গে মিশে আন্দোলন করে৷

.২০০১ সালে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে বিএনপির সাথে জোট করে জামাত ইসলামি৷ এখনও বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোটের সর্ব বৃহত্তম শক্তি হিসেবে পরিচিত জামাত ইসলামি৷

.২০১৩ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রুলের রায় ঘোষণা করে এতে সংগঠনের নিবন্ধন অবৈধ এবং সংগঠনটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে একাধিক গণহত্যায় জামাত ইসলামির শীর্ষ নেতৃত্ব জড়িয়ে থাকার ঘটনা বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হয়েছে৷ রায়ের পর শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে৷ বর্তমানে জামাত নেতৃত্বের প্রথম সারির সবাই প্রায় বন্দি৷ কয়েকজন আড়ালে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে মরিয়া৷

The post জাতীয় নির্বাচনে কট্টরপন্থী জামাত ইসলামিকে বাইরে রাখার আইন নেই: ইসি appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper https://ift.tt/2POUj6J
via IFTTT

Comments