পণ্য পরিষেবা কর চালুর করার আগের ১৭ বছরের পথচলা

পণ্য পরিষেবা কর চালু করার পরে কেটে গেল একটা বছর৷ গত বছর ৩০জুন মধ্যরাতে সংসদে বিশেষ অনুষ্ঠান করে গোটা দেশের জন্য এটি চালু করা হয়েছিল৷ কিন্তু কর ব্যবস্থায় এমন সংস্কারে আগে পেরিয়ে আসতে হয়েছিল দীর্ঘ ১৭ বছর৷

চালু হওয়ার আগে কখনও মেনে নেওয়া আবার কখনও বা বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে পণ্য পরিষেবা করকে (জিএসটি) ৷ ফলে এই কর সংস্কার কয়েক ধাপ এগোলেও সময় সময়ে আবার থমকে দাঁড়িয়েছে ৷ এই দীর্ঘ পথ চলায় দিল্লিতে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে, প্রধানমন্ত্রী থেকে অর্থমন্ত্রীর বদল ঘটে গিয়েছে কয়েকবার ৷ কংগ্রেস বিজেপি-র শাসক বিরোধী অবস্থান যেমন বদলেছে তেমনই আবার জিএসটি চালুর প্রস্তাব ও বিরোধিতা ঘিরে অদ্ভূত ভাবে অবস্থান বদলাতে দেখা গিয়েছে দেশের দুই প্রধান দলকে৷

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পণ্য পরিষেবা করের যাত্রাপথ:

১৯৯৯: প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলেই প্রথম জিএসটি-র ভাবনা৷ তিনি তাঁর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বিমল জালান, সি রঙ্গরাজন ও আই জি পটেলের সঙ্গে এক বৈঠকে পণ্য পরিষেবা কর চালুর কথা ভাবা হয়৷

২০০০: এরপর পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে এমপাওয়ার্ড কমিটি গঠন করে এই নিয়ে কাজ শুরু হয়৷

২০০৩: বিজয় কেলকারের নেতৃত্বে এই জন্য টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়৷

২০০৫: কেলকার কমিটির জিএসটি চালু করার সুপারিশ করেন৷

২০০৬: পি চিদম্বরমের তাঁর বাজেট বক্তৃতায় প্রথম জিএসটি চালু করার কথা ঘোষণা করেন৷ লক্ষ্য স্থির হয় ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে নয়া কর ব্যবস্থা চালু করার৷

২০০৯: অসীম দাশগুপ্তর নেতৃত্বাধীন কমিটির তৈরি নকশার ভিত্তিতে জিএসটি-র মূল কাঠামো ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ তখন অবশ্য গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি এই কর চালুর বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন৷

২০১০: তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হলেও ১ এপ্রিল থেকে জিএসটি চালু করা গেল না৷

২০১১: জিএসটি চালুর জন্য সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিলের খসড়া পেশ করেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। কিন্তু বিজেপির আপত্তির জেরে বিল পাঠাতে হয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে৷

২০১২: অর্থমন্ত্রকে দায়িত্বে ফের আসেন চিদম্বরম৷ এরপর ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মতবিরোধ কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য ঘোষণা করে৷

২০১৩: রাজ্যগুলির সমর্থন পেতে কেন্দ্রীয় বাজেটে রাজস্ব ক্ষতিপূরণ মেটানোর ঘোষণা করেন চিদম্বরমের। এরপরেই অনেক রাজ্য নরম হলেও গুজরাতের মোদী সরকার বিরোধিতায় অনড় থাকে৷

২০১৪: দিল্লিতে পালা বদলের পর নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নতুন জিএসটি সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেন তাঁর অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। আর তা দেখে আবার আপত্তি তোলে কংগ্রেস৷

২০১৫: ২০১৬-র ১ এপ্রিল থেকে জিএসটি চালুর লক্ষ্য নিয়ে মে মাসে লোকসভায় বিল পাশ হলেও তারপরে তা আটকে যায় রাজ্যসভায়৷

২০১৬: অগস্ট মাসে রাজ্যসভাতেও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হয়৷ বেশির ভাগ রাজ্যের সম্মতি মেলে এবং তা রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন৷ এরপর সেপ্টেমর মাসে জিএসটি পরিষদ গঠন করা হয় চেয়ারম্যান হন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং ভাইস-চেয়ারম্যানের পদে আনা হয় পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে৷ শুরু হয় জিএসটি সংক্রান্ত বিলের খসড়া তৈরির কাজ ৷

২০১৭: মার্চে জিএসটি-র চারটি বিল লোকসভায় পাশ, রাজ্যগুলিরও নিজস্ব জিএসটি বিল পাশ করানো শুরু হয়৷ নানা বিরোধিতা ও টালবাহানা করলেও জুন মাসে জিএসটি চালুর অর্ডিন্যান্স মমতা সরকারের৷ স্থির হয় ১জুলাই থেকে জিএসটি চালু করার জন্য ৩০জুন মধ্যরাতে সংসদের সেন্ট্রাল হলে বিশেষ অনুষ্ঠান করার৷

ফলে সেদিন স্বাধীনতার ৭০ বছর পর আবারও সংসদে মধ্যরাতের অধিবেশন হয়েছিল। মধ্যরাতের অধিবেশনে সংসদের সেন্ট্রাল হলে অ্যাপের মাধ্যমে চালু হল পরোক্ষ করে ক্ষেত্রে এহেন বিপ্লব৷

ঘড়ির কাঁটা রাত ১২ টার ঘর ছুঁতেই অ্যাপের বোতাম টিপে এক দেশ এক কর-এর যাত্রা শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৷ এরই সঙ্গে ১৭ ধরনের ট্যাক্স ও ২৩ ধরনের সেস-এর অবসান ঘটিয়ে লাগু হল পণ্য পরিষেবা কর৷

সেদিন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, অন্যান্য মন্ত্রীরা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, লালকৃষ্ণ আডবাণী, শরদ পওয়াররা। সিপিএম এই অনুষ্ঠান বয়কট করলেও জিএসটি কমিটির প্রথম প্রধানের দায়িত্বভার সামলানোর জন্য বিশেষ আমন্ত্রণে হাজির ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত ৷

The post পণ্য পরিষেবা কর চালুর করার আগের ১৭ বছরের পথচলা appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2tJsROI
via IFTTT

Comments