আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদীর বুক চিরে বালি তোলার কাজ অব্যাহত
স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ রয়েছে সরকারি নজরদারিও। কিন্তু সেই নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবাধে নদীর বুক চিরে শ’য়ে শ’য়ে লরিতে তোলা হচ্ছে বালি। শুধু বালি তোলাই হচ্ছে না। রীতিমত নদীর বুকে জেসিবি মেশিন, ছাঁকনি মেশিন দিয়ে তোলা হচ্ছে বালি।
অথচ প্রতি বছরের মত এই বছরও ১৫ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদীর বুক থেকে বালি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, গত সোমবার থেকেই জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা লাগাতার বালির ওভারলোর্ডিং বন্ধ করতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার এই দু’দিনে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা জরিমানা বাবদ রাজ কোষাগারে জমা পড়েছে। অবৈধভাবে বালি নিয়ে যাওয়া এবং ওভারলোর্ডিং-এর দায়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮ জন লরি চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১৮ টি লরিকেই।
কিন্তু তারপরেও প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে বালিঘাট থেকে সরকারি নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখনও বালি তোলা চলছে সেখানে সরকারি নজরদারি কোথায়? এমনকি এই ব্যাপারে সরকার থেকে কোনও কড়া পদক্ষেপই বা কেন নেওয়া হচ্ছে না? অপরদিকে, বুধবার সকালে জামালপুরের শম্ভুপুরে দামোদরের ঘাটে গিয়ে দেখা গেল, রীতিমত নিশ্চিন্তেই বেপরোয়া ভাবে নদীর বুকে দাঁড়িয়ে রয়েছে সারি সারি লরি। চলছে জেসিপি এবং ছাঁকনি মেশিন দিয়ে বালি তোলার কাজও।

অথচ সরকারি নিয়মানুযায়ী জেসিবি মেশিন দিয়ে বালি তোলা সম্পূর্ণভাবেই নিষিদ্ধ। এই ব্যাপারে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, তাঁরা এ ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) প্রণব বিশ্বাসও জানিয়েছেন, জেসিবি মেশিন দিয়ে বালি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ঘাটের বালি তোলার কাজে নিযুক্ত এক কর্মী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানিয়েছেন, তাঁদের মালিক তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন কোনেও অসুবিধা নেই বলে। তাই তাঁরাও নির্ভয়ে বালি তোলার কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, দামোদরের বুক চিরে অবৈধ বালি পাচার আজকের সমস্যা নয়৷ বহুদিন ধরেই বালিপাচারকারীদের দাপটে দিশেহারা এলাকার লোকজন৷ শুধু এলাকার লোকজন নয়, গতিহারা দামোদরও৷ যত্রতত্র দামোদরের বুক থেকে বালি তোলায় গতিপথে বদল এসেছে এই নদের৷ পূর্ব বর্ধমানের সদরঘাট, জামালপুর, দাদপুর, সারাংপুরে একটু খোঁজ নিলেই দেখা যাবে এখানে বালি পাচারকারীদের দাপট৷
ঘাট থেকে দামোদরের বুক অবধি যেতে কোথাও তৈরি করেছে অস্থায়ী সেতু৷ আবার কোথাও ইট, পাথর ফেলে করে নিয়েছে অস্থায়ী পথ৷ রাতের কালো অন্ধকারেও যেমন চলে দেদার বালি তোলার কাজ৷ তেমনই প্রকাশ্য দিবালোকেও স্বচ্ছন্দ্য পাচারকারীরা৷ মাফিয়ারা প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে বালি তুলে নেয়৷ চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয়ও করে তারা৷
বালি মাফিয়াদের এই ‘অত্যাচারের’ জেরে দামোদর যে শুধু গতিপথ বদল করছে তেমনটাই নয়৷ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙছে পার৷ প্রমাদ গুনছেন গ্রামের মানুষগুলো৷ বর্ষায় একটু জলের তোড় এলেই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে গ্রামকে গ্রাম৷ এ তো গেল এক বিপদের কথা৷ আরও বিপদেরও আশঙ্কা রয়েছে৷ যেহেতু বিজ্ঞানসম্মতভাবে বালি তোলা হয় না, সেক্ষেত্রে দামোদরের বুকে যেসব বাঁধগুলি রয়েছে তাও কিন্তু ভেঙে পড়তে পারে যেকোনও দিন৷
সেচ দফতর বছর কয়েক আগেই বিপুল পরিমানে টাকা খরচ করে দামোদরের বাঁধের সংস্কার করেছে৷ কিন্তু তাতে লাভ কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের মনেই৷ এভাবে অবৈধভাবে বালি তোলা হলে নদের বিরাট ক্ষতি৷ ক্ষতির মুখে পড়বে বাঁধও৷ বালিচুরি রুখতে জেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় নাকি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও বসানো হয়েছে৷ তবে সেসব কতটা কার্যকর হয়েছে তা তো এদিনের অভিযানই বুঝিয়ে দিল৷
The post আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদীর বুক চিরে বালি তোলার কাজ অব্যাহত appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.
from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2toR8c4
via IFTTT
Comments
Post a Comment